হুন্ডি ব্যবসা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ?

assalamoalaikom.kamon asen?ame lebanon thaka boltase.ame (honde bebosah) shomporke jante agrohi. ai bebosah ta soriot sommoto ki na???janale onek opokrito hobo.valo thakben r ottorer oprkkhai roilam.

amar nam zesun sharif

উত্তর : হুন্ডি ব্যবসা বলতে যেটা আমরা জানি সেটা হচ্ছে, অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ চালান দেওয়া। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি অপরাধ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, অনেক দেশেই এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেশের নাগরিকদের উচিত সেটা মেনে চলা। কারণ, এটা এখন অশিষ্ট আচরনে পরিণত হয়েছে। এই হুন্ডির মাধ্যমে বড় বড় চোরাচালান করে তারা অবৈধভাবে এর সুযোগ নিচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য এবং নানা কল্যাণ সাধনের জন্য হুন্ডি ব্যবসাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন মুসলমানের উচিত এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। যদিও হুন্ডি ব্যবসা সম্পর্কে হাদিসে কোনো বক্তব্য আসেনি বা এ ব্যবসা অবৈধ, সেটা উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি এটি নিষিদ্ধ। কারণ অনেক জিনিস, যেটা সমাজের জন্য যখন অমঙ্গল হয়, তখন সমাজের সকলে মিলে বা মুসলিম প্রশাসন যদি সেটাকে নিষিদ্ধ করে, তাহলে সেটা আমাদের সবার মেনে চলা উচিত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলব, যেহেতু হুন্ডি ব্যবসা অথবা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা হস্তান্তর নিষেধ করা হয়েছে, তাই আমাদের বৈধ উৎসের দিকে যেতে হবে, বৈধভাবেই টাকা হস্তান্তর করতে হবে।

কেননা আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার পবিত্র কালামে শাষকের হুকুম মানার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।। অনুরূপ ভাবে রাসুলে আরাবী সাঃ হাদীস মুবারকেও এই ব্যপারে নির্দেশ দিয়েছেন।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْۖ فَإِن تَنَٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

হে বিশ্বাসিগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা)দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।(সুরা নিসাঃ ৬৯)

এই আয়াতে  اُولُو الأمر (উলুল আমর) বলতে কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেছেন, নেতা ও শাসকগণ। আবার কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেছেন, উলামা ও ফুক্বাহাগণ। অর্থের দিক দিয়ে উভয় শ্রেণীর মান্যবরদেরকেই বুঝানো যেতে পারে। উদ্দেশ্য এই যে, প্রকৃত আনুগত্য তো আল্লাহর প্রাপ্য। কারণ তিনি বলেছেন, أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ] “জেনে রাখো, সৃষ্টি করা এবং নির্দেশদান তাঁরই কাজ।” (আ’রাফঃ ৫৪)

[اِنِ الْحُكْمُ إلاَّ للهِ] “বিধান দেওয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই।” (ইউসুফঃ ৪০)

কিন্তু রসূল (সাঃ) যেহেতু মহান আল্লাহর ইচ্ছার এক নিষ্ঠাবান প্রকাশক এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথগুলো (মানুষের কাছে) তুলে ধরার ব্যাপারে তিনি তাঁর প্রতিনিধি, এ জন্যই মহান আল্লাহর স্বীয় আনুগত্যের সাথে সাথে রসূল (সাঃ)-এর আনুগত্য করাকেও ওয়াজেব করে দেন এবং বলেন যে, রসূলের আনুগত্য করলে প্রকৃতপক্ষে তাঁরই আনুগত্য করা হয়।

[مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ] “যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল।” (নিসাঃ ৮০)

এ থেকে এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হাদীসও কুরআনের মত দ্বীনের দলীল। এ ছাড়া আমীর ও শাসকের আনুগত্য করাও জরুরী। কারণ, হয় তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশের বাস্তবায়ন করেন অথবা সকল মানুষের কল্যাণ সাধনের ব্যবস্থাপনা ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আমীর ও শাসকের আনুগত্য করা জরুরী হলেও তা একেবারে শর্তহীনভাবে নয়, বরং তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের শর্তসাপেক্ষ। আর এই কারণেই أَطِيْعُوا الله এর পরই أَطِيْعُوا الرَّسُوْل বলেছেন। কেননা, এই উভয় আনুগত্যই স্বতন্ত্র ও ওয়াজেব। পক্ষান্তরে وَأَطِيْعُوا أُولِي الأَمْر বলেননি, কারণ উলুল আমর বা শাসকদের আনুগত্য স্বতন্ত্র নয়।

আর হাদীসে বলা হয়েছে যে, ((لا طَاعَةَ لِمَخْلُوْقٍ فِي مَعْصِيَةِ الخَالِقِ)) “আল্লাহর অবাধ্যাচরণে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (মিশকাত ৩৬৯৬)

মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে, “আল্লাহর অবাধ্যতায় কোন আনুগত্য নেই।” (মুসলিম ১৮৪০)

বুখারীর বর্ণনায় এসেছে, ((إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي المَعْرُوْفِ)) “আনুগত্য হবে কেবল ভালো কাজে।” (বুখারী ৭১৪৫)

‘শাসকের কথা শুনতে হবে ও তাঁর আনুগত্য করতে হবে যতক্ষণ না (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের) অবাধ্যতা হবে।’ আলেম-উলামার ব্যাপারটাও অনুরূপ।  অর্থাৎ, তাঁদের আনুগত্য এই জন্যই করতে হবে যে, তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের যাবতীয় বিধি-বিধান বর্ণনা করেন এবং তাঁর দ্বীনের জন্য পথ-প্রদর্শকের কাজ করেন। বুঝা গেল যে, দ্বীনি বিষয়ে এবং দ্বীন সম্পর্কীয় কার্যকলাপে আলেম-উলামা শাসকদের মতই এমন কেন্দ্রীয়-মর্যাদাসম্পন্ন যে, জনসাধারণ তাঁদের প্রতি রুজু করে থাকে। তবে তাঁদের আনুগত্য ততক্ষণ পর্যন্ত করা যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা জনসাধারণকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা শুনাবেন। কিন্তু তাদের বিপথগামী (বা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীতগামী) হওয়ার কথা স্পষ্ট হলে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না। বরং এই অবস্থায় তাঁদের আনুগত্য করলে বড় অপরাধ ও গুনাহ হবে।

আবু দাউদ শরিফের বর্ণনায় সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখিত আছেঃ

وقال أبو داود : حدثنا مسدد ، حدثنا يحيى ، عن عبيد الله ، حدثنا نافع ، عن عبد الله بن عمر ، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ” السمع والطاعة على المرء المسلم فيما أحب وكره ، ما لم يؤمر بمعصية ، فإذا أمر بمعصية فلا سمع ولا طاعة “

‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ’ বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুসলমানদের উপর আবশ্যক যে, (শাষকের কথা) শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা, যা সে ভালবাসে ও অপছন্দ করে, যতক্ষণ না তাকে অবাধ্যতার নির্দেশ করা হয়। যখন অবাধ্যতার নির্দেশ করবে তখন কোন শ্রবণ বা আনুগত্য নেই ”

উপসংহারঃঃ যেহেতু রাষ্ট্রীয় ভাবে হুন্ডি ব্যবসা কে অবৈধ করা হয়েছে, সেহেতু প্রত্যেক মুসলিমের এই ব্যবসা থেকে বেচে থাকা কর্তব্য।

Copyright By:  মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com