শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে শিক্ষা আইন-২০১৬ প্রণয়ন ও এর ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে শিক্ষা আইন-২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। অনেকে হয়ত বিষয়টি বুঝতে পারেনি। যারা বুঝতে পারেনি, তাদের জন্য বলছি, এতদিন যে ধর্মবিরোধী শিক্ষানীতি ছিলো তার কোন আইনী ভিত্তি ছিলো না, এখন ঐ ধর্মবিরোধী শিক্ষানীতিকে আইন হিসেব জারি করে বৈধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যার ফলে ঐ ধর্মবিরোধী শিক্ষানীতির বিরোধী করলেই আপনার হবে জেল-জরিমানা।

শিক্ষানীতি
সত্যিই বলতে শিক্ষানীতি কাকে বলে তা সাধারণ মানুষ বুঝে না। কিন্তু সেই শিক্ষানীতির আদলে যে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন হয় তা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। শিক্ষানীতি-২০১০ এর কারণে পুরাতন শিক্ষা সিলেবাস থেকে যে সকল পাঠ্য বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যে নতুন বিষয়বস্তুগুলো প্রবেশ করেছে সেগুলো দেখলে আশা করি বুঝতে পারবেন, শিক্ষানীতির সারমর্ম কি, এবং তার দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের কি ক্ষতি হবে।
সম্প্রতি পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া বিষয়গুলি হলোঃ-
১)) ক্লাস-২: ‘সবাই মিলে করি কাজ’ – শিরোনামে মুসলমানদের শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।
২) ক্লাস-৩: ‘খলিফা হযরত আবু বকর’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।
৩) ক্লাস-৪: খলিফা হযরত ওমর এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।
৪) ক্লাস-৫ : ‘বিদায় হজ্জ’ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।
৫) ক্লাস-৫: বাদ দেওয়া হয়েছে কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত ‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। যা বাদশাহ আলমগীর মহত্ব বর্ণনা উঠে এসেছে। এবং শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে আদব কেমন হওয়া উচিত তা বর্ণনা করা হয়েছিলো।
৬) ক্লাস-৫ : শহীদ তিতুমীর নামক একটি জীবন চরিত। এ প্রবন্ধটিতে শহীদ তিতুমীরের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ ছিলো।
৭) ক্লাস-৬ : ড. মুহম্মদ শহীদু্ল্লাহ লিখিত ‘সততার পুরুষ্কার’ নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষনীয় ঘটনা।
৮) ক্লাস-৬ : মুসলিম দেশ ভ্রমণ কাহিনী- ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’।
৯) ক্লাস-৬ : মুসলিম সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা ‘প্রার্থনা’ নামক কবিতাটি।
১০) ক্লাস-৭: বাদ দেয়া হয়েছে মরু ভাষ্কর নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।
১১) ক্লাস-৮: বাদ দেওয়া হয়েছে ‘বাবুরের মহত্ত্ব’ নামক কবিতাটি।
১২) ক্লাস ৯-১০: সর্ব প্রথম বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ নামক ধর্মভিত্তিক কবিতাটি।
১৩) ক্লাস ৯-১০: এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি ‘আলাওল’ এর ধর্মভিত্তিক ‘হামদ’ নামক কবিতাটি।
১৪) ক্লাস ৯-১০: বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি আব্দুল হাকিমের লেখা বঙ্গবানী কবিতাটি।
১৫) ক্লাস ৯-১০: গোলাম মোস্তাফার লেখা জীবন বিনিময় কবিতাটি। কবিতাটিতে মোঘল বাদশাহ বাবর ও তারপুত্র হুমায়ুনকে নিয়ে লেখা।
১৬) ক্লাস ৯-১০: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’ কবিতা।
এর বদলে বাংলা বইয়ে প্রবেশ করেছে-
পাঠ্যবইয়ে যা প্রবেশ করেছে-
১) ক্লাস-৫ : স্বঘোষিত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক একটি কবিতা, যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরোধী কবিতা।
২) ক্লাস-৬: প্রবেশ করানো হয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। যেখানে রয়েছে হিন্দুদের দেবী দূর্গার প্রশংসা।
৩) ক্লাস-৬: সংযুক্ত হয়েছে ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে মায়ের মত, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ।
৪) ক্লাস-৬: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের হিন্দুদের তীর্থস্থান রাচি’র ভ্রমণ কাহিনী।
৫) ক্লাস-৭: `লালু’ নামক গল্পে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের পাঠাবলীর নিয়ম কানুন।
৬) ক্লাস-৮: পড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্তরূপ।
৭) ক্লাস ৯-১০: প্রবেশে করেছে ‘আমার সন্তান’ নামক একটি কবিতা। কবিতাটি হিন্দুদের ধর্মসম্পর্কিত ‘মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভূক্ত, যা দেবী অন্নপূর্ণার প্রশংসা ও তার কাছে প্রার্থনাসূচক কবিতা।
৮) ক্লাস ৯-১০: অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ভারতের পর্যটন স্পট ‘পালমৌ’ এর ভ্রমণ কাহিনী।
৯) ক্লাস ৯-১০: পড়ানো হচ্ছে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ শিরোনামে বাউলদের বিকৃত যৌনাচার।
১০) ক্লাস ৯-১০: ‘সাকোটা দুলছে’ শিরোনামের কবিতা দিয়ে ৪৭ এর দেশভাগকে হেয় করা হচ্ছে, যা দিয়ে কৌশলে ‘দুই বাংলা এক করে দেওয়া’ অর্থাৎ বাংলাদেশকে ভারতের অন্তর্ভূক্ত হতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
১১) ক্লাস-৯-১০: প্রবেশ করেছে ‘সুখের লাগিয়া’ নামক একটি কবিতা, যা হিন্দুদের রাধা-কৃষ্ণের লীলাকৃর্তণ।
যদিও বলা হচ্ছে সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা, তাই ইসলামের বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, সেক্যুলার শিক্ষার নামে ইসলামী শিক্ষা বাদ দিয়ে হিন্দুয়ানী শিক্ষা চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলমান শিশু-কিশোরদের হিন্দু বানানোই হচ্ছে শিক্ষানীতি-২০১০ এর কাজ। আর এই শিক্ষানীতিকে যদি আইনরূপে জারি করা হয়, তবে এর কারণে ভবিষ্যত প্রজন্ম যে নিজ ধর্মচ্যূত হয়ে হিন্দুত্ববাদ গ্রহণ করবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

তড়িঘড়ি করে ইসলামবিদ্বেষী শিক্ষানীতিকে আইন রূপে জারি করার ষড়যন্ত্র

সবাই সাবধান !! সরকার তড়িঘড়ি করে ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি-২০১০কে শিক্ষাআইন রূপে জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের ওয়েসসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মাত্র ৭ দিন (১০ এপ্রিল, ২০১৬ পর্যন্ত) সময় দেওয়া হয়েছে মতামত জানানোর জন্য। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে সাধারণ জনগণের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, তার ছেলেমেয়েকে কি পড়ানোর জন্য বিরাট আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেখানে কি থাকছে ? কিংবা সেটা পড়ে তার ছেলে মেয়ে আদৌ মুসলিম থাকবে কি না, এ সম্পর্কে যাচাই করার সুযোগ থাকছে না।
যেমন-
১) আইনের ৭ এর ১ ও ৩ ধারা মোতাবেক সরকার যে পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ/অনুমোদন দিবে শুধু সেটাই পড়াতে হবে, এর বাইরে পড়ালে জেল/জরিমানা হবে।
২) আইনের ১০ ও ১১ ধারা মোতাবেক, সকল মাদ্রাসাকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোন মাদ্রাসা চলতে পারবে না। এই আইনের আওতায় নিবন্ধনবিহীন মাদ্রাসা সরকার তা বাধ্যতামূলক বন্ধ করে দিতে পারবে। মূলত কওমী মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই আইন করা হচ্ছে।
৩) আইনের ২০ এর ১(খ-৩) মোতাবেক মাদ্রাসাগুলোকে আধুনিক ও যুযোপযোগী করার নামে ধর্মভিত্তিক শিক্ষা সরিয়ে নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা প্রবেশ করানো হবে।
৪) উপজাতি সংস্কৃতি বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্য করতে হবে (২১-২ ধারা)।
৫) ৫০ এর ৪ ধারা অনুযায়ী প্রজনন স্বাস্থ্য অন্তর্ভূক্ত করা হবে।
৬) ৬২-১ এর মতে অসাম্প্রদায়িক নাম দিয়ে ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি বলবৎ থাকবে।
৭) ২-২৯ ধারা মোতাবেক ‘একিভূত শিক্ষা’র নাম দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমকে অমুসলিমদের ধর্মকর্ম শিখানো হবে।
৮) ৭-৮ ধারা অনুযায়ী উপজাতি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হবে।
৯) প্রত্যেক ক্ষেত্রে আইনলঙ্ঘনকারীকে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যেহেতু সরকার জনগণের মতামত চেয়েছে, খুব ভালো কথা কিন্তু মাত্র ৭ দিন কেন ? যেহেতু শিক্ষা জনগণ গ্রহণ করবে, জনগণ নয়, তাই জনগণকে এ আইন সম্পর্কে মতামত জানানোর জন্য কমপক্ষে ৩ মাস বা ৯০ দিন সময় দিতে হবে। যেহেতু শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে সিলেবাস স্পষ্ট ইসলাম বিরোধী হয়েছে, তাই এই শিক্ষানীতির আলোকে নয় বরং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বা সংগরিষ্ঠের ধর্ম ইসলাম অনুসারে শিক্ষা আইন-২০১৬ প্রণয়ন করা উচিত। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের মতামত প্রাধান্য দেওয়া উচিত, ২-৪টা ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিকের শিক্ষানীতি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের উপর চাপিয়ে দেওয়া কখনই উচিত হবে না।
বিজ্ঞপ্তিটি আইনসহকারে ডাউনলোড করতে

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com