হাদীস, আসারে সাহাবী ও তাবেয়ী’র অালোকে পুরুষ-মহিলার নামাযের উল্ল্যেখযোগ্য কিছু পার্থক্য।

নারীগণ তাহরিমার সময়ে কাঁধ
পর্যন্ত হাত উঁচু করবেঃ

হাদীস, আসারে সাহাবী ও তাবেয়ী'র অালোকে পুরুষ-মহিলার নামাযের উল্ল্যেখযোগ্য কিছু পার্থক্য।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، قَالَ : قُلْتُ لِعَطَاءٍ : تُشِيرُ الْمَرْأَةُ بِيَدَيْهَا بِالتَّكْبِيرِ كَالرَّجُلِ ؟ قَالَ : لاَ تَرْفَعُ بِذَلِكَ يَدَيْهَا كَالرَّجُلِ ، وَأَشَارَ فَخَفَضَ يَدَيْهِ جِدًّا ، وَجَمَعَهُمَا إلَيْهِ جِدًّا وَقَالَ: إنَّ لِلْمَرْأَةِ هَيْئَةً لَيْسَتْ لِلرَّجُلِ ، وَإِنْ تَرَكَتْ ذَلِكَ فَلاَ حَرَجَ

হযরত ইবনে জুরাইয বলেন:
আমি হযরত আতা বিন আবী
রবাহকে জিজ্ঞেস করলাম: নারীগণ
তাকবীরের সময়ে কি পুরুষের মতো হাত ইশারা করবে? তিনি বললেন:
না, পুরুষের মতো করবে না। অতঃপর তিনি নিজে হাত ইশারা করে দেখালেন আর দুই হাত খুব নীচু করলেন এবং শরীরের সাথে মিলিয়ে রাখলেন। অতঃপর বললেন: মহিলাদের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে
যা পুরুষের মতো নয়। তবে এটা পরিত্যাগ করলেও
সমস্যা নেই। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৮৯)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’।
এ হাদীসটির রাবীগণ সবাই-ই ثقة “নির্ভরযোগ্য” ও বুখারী- মুসলিমের রাবী। অতএব, সনদের বিবেচনায়  হাদীসটি সহীহ।

হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী  এটা মাকতু’ হাদীস বা‘আছারে  তাবিঈ’। যুক্তিগ্রাহ্য নয় এমন  সব কথা বা কাজ তাবিঈদের থেকে বর্ণিত  হলে তা সাহাবায়ে কিরামকে করতে দেখে বা  তাদের থেকে শুনে বলে থাকেন। আর সাহাবায়ে  কিরামের ভিত্তি হলো  রসূলুল্লাহ স.। এ হিসেবে বর্ণনাটি  শরীআতের দলীল; যদিও অবশ্য পালনীয় নয়। হাদীসের কিতাবের লেখকগণসবাই-ই নিজ নিজ কিতাবে প্রয়োজন অনুসারে তাবিঈদের এ জাতীয় উক্তি বর্ণনা করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী রহ. ‘আমীন’ বলার অধ্যায়ে হযরত আতা রহঃ থেকেই এ উক্তি উল্লেখ করেছেন যে,

قَالَ عَطَاءٌ: «آمِينَ دُعَاءٌ» “হযরত আতা রহ. বলেন: ‘আমীন’একটি দুআ। হযরত আতা বিন আবী রবাহ রহ. থেকে বর্ণিত এ আমলকে আমরা মহিলাদের জন্য উত্তম মনেকরি। আর সহীহ মারফু’ হাদীসেও কাঁধ পর্যন্ত হাত উত্তোলনের আমল বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী: ৭০০)
সুতরাং হযরত আতা রহ.-এর মন্তব্য দ্বারা হাত উত্তোলনের ব্যাপারে বর্ণিত একাধিক সহীহ হাদীসের মধ্যে কেবল একটি হাদীসকে মহিলাদের জন্য প্রাধান্য দেয়া হলো মাত্র। নতুন কোন বিধান প্রমাণিত হলো না। উপরন্তু, এ পদ্ধতির অনুসরণ মহিলাদের রূপ-সৌন্দর্য অন্যের দৃষ্টি থেকে আড়াল করার বেশী উপযোগী। সুতরাং পর্দার প্রতি লক্ষ্য রেখে  তাদের জন্য এই আমলটিকে আমরা প্রাধান্য  দিয়ে থাকি।

নারীদের রুকু-সিজদার তরীকাঃ

حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنِ الْحَارِثِ ، عَنْ عَلِيٍّ ، قَالَ : إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتَحْتَفِز ، وَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا.

হযরত আলী রা. বলেন: মহিলারা যখন সিজদা করবে তখন নিজেদেরকে গুটিয়ে নিবে এবং রান (পেটের সাথে) মিলিয়ে রাখবে। (ইবনে আবীশাইবা: ২৭৯৩)

হাদীসটির স্তর : হাসান, মাউকুফ। হারিস ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর হারিসকে অধিকাংশ ইমাম জঈফ বললেও কোনকোন  ইমাম তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। আহমাদ বিন সালেহ বলেন:
الحارث الاعور ثقة ما احفظه وما احسنه ما روى عن على وأثنى عليه
“হারেস নির্ভরযোগ্য, তিনি কতস্মৃতিশক্তিসম্পন্ন! হযরত আলী রা. থেকে তাঁর বর্ণনাকত সুন্দর; এ কথা বলে তিনি তাঁর প্রশংসা করেছেন”। ইবনে আবী খাইসামা বলেন:
قيل ليحى يحتج بالحارث فقال مازال المحدثون يقبلون حديثه
ইমাম ইয়াইয়া রহ.কে জিজ্ঞেস করা হলো: হারিসের দ্বারা কি দলীল গ্রহণ করা যায়? তিনি বললেন: মুহাদ্দিসগণ সর্বদাই তাঁর হাদীস গ্রহণ করে থাকেন। ইমাম নাসাঈ রহ. বলেন:
ليس به بأس
“কোন অসুবিধা নেই”। (তাহজীবুত তাহজীব)
হারেস সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে ইমাম তিরমিজী রহ. হাসান বলেছেন।(তিরমিজী-২৭৩৬)

حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الأَشَجِّ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؛ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَلاَةِ الْمَرْأَةِ ؟ فَقَالَ : تَجْتَمِعُ وَتَحْتَفِزُ.

হযরত ইবনে আব্বাস রা. কে মহিলাদের নামাযের ব্যাপারে  জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: জড়োসড়ো হয়ে এবং গুটিয়ে থাকবে। (ইবনে আবী শাইবা: ২৭৯৪)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণসবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ ، عَنْ مُغِيرَةَ ، عَنْ إبْرَاهِيمَ ، قَالَ : إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا ، وَلْتَضَعْ بَطْنَهَا عَلَيْهِمَا.

হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহ. বলেন: নারীগণ যখন সিজদা  করবে তখন রান মিলিয়ে রাখবে এবং পেট রানের ওপর  রাখবে। (ইবনে আবীশাইবা: ২৭৯৫)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’।  এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ؛ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ بَطْنَهُ عَلَى فَخِذَيْهِ إذَا سَجَدَ كَمَا تَصْنَعُ الْمَرْأَةُ.

পুরুষগণ নারীদের মতো সিজদার সময়ে রানের ওপর পেট রাখাকে মুজাহিদ রহ. অপছন্দ করতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৭৯৬)

হাদীসটির স্তর : হাসান, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী।

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ إبْرَاهِيمَ ، قَالَ : إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتُلْزِقْ بَطْنَهَا بِفَخِذَيْهَا ، وَلاَ تَرْفَعْ عَجِيزَتَهَا ، وَلاَ تُجَافِي كَمَا يُجَافِي الرَّجُلُ.

হযরত ইবরাহীম নাখঈ রহ. বলেন: নারীগণ যখন সিজদা  করবে তখন তার পেট রানের সাথে মিলিয়ে রাখবে এবং নিতম্ব উঁচু করে রাখবে না এবং (বাহু) ফাঁকা করে রাখবে না যেমন পুরুষগণ রাখে। (ইবনে আবী শাইবা: ২৭৯৮)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: تَجْتَمِعُ الْمَرْأَةُ إِذَا رَكَعَتْ تَرْفَعُ يَدَيْهَا إِلَى بَطْنِهَا، وَتَجْتَمِعُ مَا اسْتَطَاعَتْ، فَإِذَا سَجَدَتْ فَلْتَضُمَّ يَدَيْهَا إِلَيْهَا، وَتَضُمَّ بَطْنَهَا وَصَدْرَهَا إِلَى فَخِذَيْهَا، وَتَجْتَمِعُ مَا اسْتَطَاعَتْ ”

হযরত আতা বিন আবী রবাহ রহ.বলেন: মহিলারা যখন রুকু করবে তখন জড়োসড়ো হয়ে করবে। হাত উঁচু করে পেটের সাথে মিলিয়ে রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়োসড়ো হয়ে থাকবে। অতঃপর যখন সিজদা করবে  দুই হাত শরীরের সাথে মিলিয়ে রাখবে। পেট ও সিনা  রানের সাথে মিলিয়ে রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়োসড়ো হয়ে থাকবে। (আব্দুর রযযাক: ৫০৬৯, পৃষ্ঠা:৩/১৩৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’।  এ হাদীসটির রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী উপরোক্ত হাদীসগুলো মাউকুফ বা মাকতু’। ইবাদাত সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবায়ে কিরামের কথা মারফু’ হাদীসের অনুরূপ। আর তাবিঈগণের  মাকতু’ হাদীস বা ‘আছার শরীআতে অবশ্য পালনীয় না হলেও এর মধ্যে সাহাবায়ে কিরামের শিক্ষার  প্রতিফলন ঘটে। আর সাহাবায়ে কিরামের ভিত্তি হলো রসূলুল্লাহ স.। উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নারীদের জন্য রুকু সিজদায় জড়োসড়ো  হয়ে থাকা উত্তম।

এ হাদীসগুলো থেকে একটি নীতিমালাও বের হয়ে আসে যে, নামায আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের কন্ঠস্বর নীচু রাখা, রূপ- সৌন্দর্য ও শারীরিক অবয়ব ঢেকেরাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ  এবং তাদের জন্য এটা সুন্নাত তরীকার আওতাভুক্ত।

এ নিয়মের আওতায় নামাযে  কিছু ঘটলে পুরুষগণ তাসবীহ দ্বারা সতর্ক করবে আর নারীগণ হাতে আওয়াজ করে সতর্ক করবে। (বুখারী: ১১৩০)।
এ নিয়মের আওতায় নারীদের নামায অন্দর কুটিরে উত্তম। (আবু দাউদ: ৫৬৭)
এ ছাড়া নারীদের জন্য রুকু-সিজদায় জড়োসড়ো হয়ে থাকা; (ইবনে আবীশাইবা: ২৭৯৩-২৭৯৮)
নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় বুকের ওপর হাত বাঁধা এবং বৈঠকের সময়ে উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে দিয়ে  নিতম্ব যমীনের সাথে মিলিয়ে রাখা সহ বেশ কিছু মাসআলায় নারীদের ভিন্নতা রয়েছে। এ নিয়মের আওতায় নারীগণ রুকুতে সামান্য ঝুকবে। এ শেষোক্ত  মাসআলার দলীল হিসেবে নিম্নে বর্ণিত হাদীসটিও পেশ করা  যেতে পারে।

حَدَّثَنَا حَفْصٌ عَنِ الْجَعْدِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَنِ ابْنَةٍ لِسَعْدٍ أَنَّهَا كَانَتْ تُفْرِطُ فِي الرُّكُوع تَطَأْطُؤًا مُنكَرَاً ، فَقَالَ لَهَا سَعْدٌ : إنَّمَا يَكْفِيك إذَا وَضَعْت يَدَيْك عَلَى رُكْبَتَيْك.

আয়েশা বিনতে সা’দ থেকে বর্ণিত, তিনি রুকুতে খুব বেশী  ঝুঁকতেন যা দৃষ্টিকটু। অতঃপর হযরত সা’দ বিন  আবী ওয়াক্কাস রা. তাকে বললেন: তোমার দুই হাত হাঁটুতে রাখলে তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (ইবনে আবী শাইবা: ২৫৯২)

হাদীসটির স্তর : এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী -মুসলিমের রাবী। তবে সনদে বিচ্ছিন্নতা আছে বলে মনে হয়।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীসের ভিত্তিতে নারীদের জন্য সুন্নাত হলো পুরুষের তুলনায় কম ঝোঁকা। তবে অবশ্যই এতটুকু ঝুঁকতে হবে  যাতে উভয় হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে। অন্যথায় রুকু হবে না। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে নারীদের শরীর তুলনামূলক বেশী আবৃত থাকে, রুকু শুদ্ধ হয় আবার জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবা হযরত  সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা.-এর কথার প্রতি আমলও হয়ে যায়।

মহিলাদের বৈঠকের পদ্ধতিঃ

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ثَوْرٍ عَنْ مَكْحُولٍ أَنَّ أُمَّ الدَّرْدَاءِ كَانَتْ تَجْلِسُ فِي الصَّلاَةِ كَجِلْسَةِ الرَّجُلِ

হযরত মাকহুল শামী বর্ণনা করেন: উম্মুদ দারদা নামাযে পুরুষের মতো বসতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৮০১)

হাদীসটির স্তর : সহীহ মাকতু’।  এ হাদীসটির রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীসটি ইমাম বুখারী রহ.তাশাহহুদে  বসার পদ্ধতি অধ্যায়ে সনদ বিহীন বর্ণনা করেছেন। ‘পুরুষের মতো বসতেন’ শব্দটি ব্যবহার করায় প্রমাণিত হয় যে, নামাযের মধ্যে মহিলা ও পুরুষের বসার নিয়মের পার্থক্য আছে। অন্যথা আলাদা ভাবে এটা উল্ল্যেখ করার কোন প্রয়োজনীয়তা ছিলনা।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ،  يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْعَامِرِيِّ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَذَاكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ فَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ كَفَّيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ غَيْرَ مُقْنِعٍ رَأْسَهُ وَلاَ صَافِحٍ بِخَدِّهِ وَقَالَ فَإِذَا قَعَدَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَعَدَ عَلَى بَطْنِ قَدَمِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى فَإِذَا كَانَ فِي الرَّابِعَةِ أَفْضَى بِوَرِكِهِ الْيُسْرَى إِلَى الأَرْضِ وَأَخْرَجَ قَدَمَيْهِ مِنْ نَاحِيَةٍ وَاحِدَةٍ (رَوَاه ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ)

হযরত আবু হুমাইদ আস সাইদীরা. বলেন: (বর্ণনাকারী হাদীসটির কিছু অংশ বর্ণনা করলেন) যখন তিনি রুকুতে যেতেন তখন উভয় হাত দ্বারা হাঁটু মজবুত করে ধরতেন, আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখতেন। আর মাথা না ঝুঁকিয়ে এবং  (মাথা উঁচু করারমাধ্যমে) চেহারা প্রকাশ না করে পিঠ সমান রাখতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময়ে ডান পা উঠিয়ে দিয়ে বাম পায়ের তালুর ওপর  বসতেন। আর শেষ বৈঠকে বসার সময়ে বাম নিতম্বকে যমীনে ভর দিয়ে বসতেন এবং উভয় পা এক দিকে বের করে দিতেন। (আবু দাউদ: ৭৩১)

হাদীসটির স্তর : সহীহ লিগইরিহী। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের  রাবী। যদিও ইবনে লাহীআহ’র ব্যাপারে আপত্তি আছে।  শায়খ আলবানী শুধু
ولا صافح بخده
বাক্যটি ছাড়া হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।  (সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ৭৩১) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি বুখারী ও তিরমিজী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামিউল উসূল: ৩৫৭৬)

‘তাশাহহুদে বৈঠকের পদ্ধতি’  শিরোনামে বর্ণিত বৈঠকের বৈধ তিনটি পদ্ধতির মধ্যে এটাও একটি পদ্ধতি। এ হাদীসে বর্ণিত  ‘উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের ওপর  বসা’র আমল আমরা মহিলাদের জন্য বেশী পছন্দ  করি। যদিও এখানে নারী-পুরুষের কোন ভেদাভেদের কথা উল্লেখ নেই। তবে নারীদের নামাযের পদ্ধতি সমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের শারীরিক অবয়ব ও রূপ-সৌন্দর্য ঢেকে রাখা। আর তা এ পদ্ধতিতে বেশী আদায় হয়।

حَدَّثَنَا إسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ زُرْعَةَ بْنْ إِبْرَاهِيمَ عَن خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاَجِ قَالَ كُنَّ النِّسَاءُ يُؤْمَرْنَ أَنْ يَتَرَبَّعْنَ إذَا جَلَسْنَ فِي الصَّلاَةِ  وَلاَ يَجْلِسْنَ جُلُوسَ الرِّجَالِ عَلَى أَوْرَاكِهِنَّ ، يُتَّقي ذَلِكَ عَلَى الْمَرْأَةِ مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ مِنْهَا الشَّيءُ

হযরত খালিদ বিন লাজ লাজ বলেন: নারীগণ যখন নামাযে বসে তখন তাদেরকে আসন গেড়ে বসার নির্দেশ দেয়া হতো এবং বলা হতো যে, তারা যেন পুরুষের ন্যায় উরুর ওপর না বসে। নারীদেরকে এ ধরণের বৈঠক  থেকে বিরত রাখা হতো যেন তাদের থেকে লজ্জার কিছু প্রকাশ না পায়। (ইবনে আবী শাইবা: ২৭৯৯)

হাদীসটির স্তর : হাসান। যুরআ বিন ইবরাহীম ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ  সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর যুরআ বিন ইবরাহীম- এর ব্যাপারে আল্লামা ইবনে হিব্বান বলেন:
يجب أن يعتبر بحديثه
“তার হাদীস গ্রহণ করা আবশ্যক” (আছছিকাত: রাবী নম্বর- ৮০৩৪) আর মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের  ব্যাপারে আপত্তি থাকলেও এ হাদীসের অনেক  متابع “সমর্থক হাদীস”রয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ  عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ صَفِيَّةَ كَانَتْ تُصَلِّي وَهِيَ مُتَرَبِّعَةٌ

হযরত ছফিয়া রা. নিতম্বের ওপর ভর করে আসন গেড়ে বসে নামায আদায় করতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৮০০)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণসবাই-ই  বুখারী/মুসলিমের রাবী।

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنِ الْعُمَرِيِّ ، عَنْ نَافِعٍ ، قَالَ : كُنَّ نِسَاءُ ابْنِ عُمَرَ يَتَرَبَّعْنَ فِي الصَّلاَةِ

হযরত নাফে’ বলেন: ইবনে উমার রা.-এর স্ত্রীগণ আসন গেড়ে বসে নামায আদায় করতেন। (ইবনে আবী শাইবা: ২৮০৫)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের  রাবী।

ফায়দা : হাদীসে বর্ণিত  تربع  শব্দের প্রসিদ্ধ অর্থ যদিও আসন গেড়ে বসা। কিন্তু মুহাদ্দিসীনে কিরাম এটাকে সেঅর্থে ব্যবহার করেননি;  বরং تورك-এর অর্থে ব্যবহার করেছেন যার অর্থ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিয়ে নিতম্বের ওপর বসা। উভয়  বৈঠকের মধ্যেই মাটিতে নিতম্ব ঠেকিয়ে বসতে হয়। তাই বৈশিষ্টগত ভাবে উভয় বৈঠকের মাঝে সাদৃশ্য রয়েছে।  এ কারণে একটি অপরটির অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ হাদীসে تربع শব্দের দ্বারা تورك – এর অর্থ নেয়া না হলে এ হাদীসের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর আমলের ব্যাপক অমিল পরিলক্ষিত হয়। কারণ আসন গেড়ে বসার আমল মুসলিম উম্মাহর নিকটে একেবারেই অপরিচিত। এব্যাপারে আরও বিস্তারিত দেখুন- মাআরিফুস সুনান:৩/১৬৪ পৃষ্ঠা।

সারসংক্ষেপ : উপরোক্ত হাদীসসমূহ এবং তার অধীনে সর্বশেষে বর্ণিত ফায়দার সমন্বয়ে এ পদ্ধতি বেরিয়ে আসে যে, নারীগণ নামাযের বৈঠকে উভয় পা ডানদিক দিয়ে বের করে নিতম্বের ওপর বসবে। সাহাবা ও তাবিঈদের ব্যাপক আমলের কারণে আমরা পুরুষের জন্য বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার ওপর বসা এবং ডান পা খাড়া করে রাখার আমলকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আর শারীরিক অবয়ব ও রূপ-সৌন্দর্য ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে বেশী কার্যকরী হওয়ার কারণে ‘উভয় পা ডানদিক দিয়ে বের করে নিতম্বের ওপর বসার’ আমল মহিলাদের জন্য বেশী পছন্দ করি। সাহাবা ও তাবিঈনের ব্যাপক আমলের পাশাপাশি নারী-পুরুষের বৈঠকের এ পার্থক্যের মধ্যে আরও একটি বড় উপকারিতা এই যে, নারী -পুরুষ মিলে উভয় প্রকার সহীহ হাদীসের ওপর  উম্মাতের আমল হয়ে যায়। উপরন্তু, উম্মুদ দারদা রা. -এর হাদীসে নারী-পুরুষের বৈঠকের যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার বাস্তবায়নও হয়ে যায়।

Copyright By: মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com