পুরুষদের জন্য সিল্ক/রেশম, লাল, হলুদ, জাফরানি কাপড় পরিধানের বিধানঃ

আসসালামুআলাইকুম হযরত । আমি জানতে চাই যে ইসলামে ছেলেদের জন্য হলুদ এবং লাল পোশাক পড়া কতটুকু নিষিদ্ধ । বিস্তারিত আলোচনা করে জানাবেন । রকিবুল ইসলাম শান্ত । ঢাকা-1206
উত্তরঃ
حامدا ومصليا ومسلما، امابعد-

হলুদ, লাল রঙ্গের পোশাক পুরুষদের জন্য মাকরূহ ও শুধুমাত্র রেশমের পোশাক পুরুষদের জন্য হারাম, বিস্তারিত হাদিস দেখুনঃ

ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতেই ভীড় কম থাকে না। তবে পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার। পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান পায় সিল্কের পাঞ্জাবী। ছোট থেকে বড়, বড় থেকে বুড়ো সব বয়সের পুরুষদের প্রায়ই দেখা যায় সিল্কের পাঞ্জাবী পরতে। কিন্তু আমরা হয়ত জানি বা না জেনে সিল্কের পোষাকের দিকে ঝুকি। কিন্তু পুরুষের জন্য তো সিল্ক হারাম করা হয়েছে।
আলী (রাঃ) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তার মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝেে তা বণ্টন করে দিলাম। বুখারিঃইঃফাঃ৫৪২২ আহমাদঃ ১১৭১
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলূল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি, তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম।’’ আবু দাউদঃ ৪০৫৭, নাসায়িঃ ৫১৪৪, ইবন মাজাহঃ৩৫৯৫
রসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে। সহীহ বুখারীঃ ৫৫৯০
পুরুষদের জন্য হলুদ ও লাল জামা পরার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। লাল ও হলুদ রঙ পুরুষদের জন্য এই কালারের পাঞ্জাবিও এড়িয়ে চলতে হবে। রসুলুল্লাহ( সাঃ) আমর ইবনুল আস (রাঃ) কে দুইটি হলুদ রঙয়ের কাপড় পরা অবস্থায় দেখলেন। তিনি তখন বলেন, এই রঙ কাফেরদের জন্য, এই রঙের কাপড় পরিধান করো না। মুসলিমঃ ৫২৬০
উমার(রাঃ) বলেন,রসুলুল্লাহ (সাঃ)আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ,ইবনে মাজাহঃ ৩৫৯১)
তবে শুধু এক কালারের লাল না হয়ে যদি লালের মাঝে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পরা জায়েজ আছে। তবে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকলেও তাকওয়ার খাতিরে লাল রঙ এড়িয়ে চলাই উত্তম। তাই পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে।
আসুন এরূপ আরও কিছু হাদীস দেখে নেইঃ
সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৩৯৯৭
باب مَا جَاءَ فِي الْخَزِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا عَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ غَنْمٍ الأَشْعَرِيَّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ، أَوْ أَبُو مَالِكٍ – وَاللَّهِ يَمِينٌ أُخْرَى مَا كَذَبَنِي – أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْخَزَّ وَالْحَرِيرَ ‏”‏ ‏.‏ وَذَكَرَ كَلاَمًا قَالَ ‏”‏ يُمْسَخُ مِنْهُمْ آخَرُونَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏”‏ ‏.

আবদুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রঃ) ………আবূ আমির বা আবূ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শোনেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে (পরবর্তীকালে) এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা রেশম মিশ্রিত বা শুধু রেশমের তৈরী কাপড় (ব্যবহার করাকে) হালাল মনে করবে। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কিছু বর্ণনা করার পর বলেনঃ এদের কিছু লোক কিয়ামত পর্যন্ত বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিবেন।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০২

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ لُبْسِ الْمُعَصْفَرِ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنِ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ ‏.‏
সুলায়মান ইবনে হারব (রঃ) ……… আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, একবার হাদিয়া স্বরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক জোড়া রেশমী কাপড় আসলে, তিনি তা আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। আমি তা পরিধান করে তার নিকট উপস্থিত হলে আমি তার চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখতে পাই। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এটা তোমার পরিধান করার জন্য পাঠাইনি। পরে তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে তা আমি আমার স্ত্রীদের মাঝে বিতরণ করে দেই।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০৬

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ أَرْكَبُ الأُرْجُوَانَ وَلاَ أَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ وَلاَ أَلْبَسُ الْقَمِيصَ الْمُكَفَّفَ بِالْحَرِيرِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَأَوْمَأَ الْحَسَنُ إِلَى جَيْبِ قَمِيصِهِ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ ‏”‏ أَلاَ وَطِيبُ الرِّجَالِ رِيحٌ لاَ لَوْنَ لَهُ أَلاَ وَطِيبُ النِّسَاءِ لَوْنٌ لاَ رِيحَ لَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ سَعِيدٌ أُرَاهُ قَالَ إِنَّمَا حَمَلُوا قَوْلَهُ فِي طِيبِ النِّسَاءِ عَلَى أَنَّهَا إِذَا خَرَجَتْ فَأَمَّا إِذَا كَانَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا فَلْتَطَّيَّبْ بِمَا شَاءَتْ ‏.‏
মূসা ইবনে ইসমাইল (রঃ) ……… আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোমের বাদশাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য হাদিয়া স্বরুপ একটি রেশমী-চোগা (এক ধরনের জামা) প্রেরণ করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিধান করেন, যা পরিধান করেন, যা পরিধানের পর তার হাত হেলানের দৃশ্য এখন ও আমার চোখে উদ্ভাসিত। পরে তিনি তা জা’ফর (রাঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তা পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেনঃ আমি এটা তোমার পরার জন্য দেয়নি। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তবে এটা কি করবো ? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এটা তোমার ভাই নাজাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০৯

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، – رضى الله عنه – قَالَ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ وَعَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ ‏.‏
হাফস ইবনে উমার (রঃ) ……… আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোনার আংটি ও রেশমের বস্ত্র পরিধান করতে লাল জিন-পোশের উপর সওয়ার হতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৬০

باب النَّهْىِ عَنْ لُبْسِ الرَّجُلِ الثَّوْبَ الْمُعَصْفَرَ، ‏‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ ابْنَ مَعْدَانَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ نُفَيْرٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلاَ تَلْبَسْهَا ‏”‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসফুর’ ঘাস দ্বারা রঞ্জিত (কুসুম ও হলুদ রঙের) দুটি কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং তুমি এগুলি পরিধান করবে না।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুণ। আমীন।

Copyright By: মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com