সহীহ হাদীস মানার ধূয়াতুলে ঈমানের কালিমা لآإله إلاالله محمد رسول الله নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলা খেলতেছে; তারা ইসলাম ও মুসলিমের কেউ হতে পারেনা। সন্দেহ নেই তারা ঈহুদী-খ্রিষ্টানের দালাল।

সুদীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৪শত বছর যাবত পৃথীবির সকল প্রান্তে,  সকল মুসলিমগণ যেই কালিমাকে ঈমানের কালিমা হিসেবে মেনে আসছে। যেই কালিমা সকল অমুসলিম চাই সে যে ধর্মেরই হোক না কেন ইসলাম গ্রহণের সময় মূল হিসেবে গ্রহণ করছে। যেই কালিমা আজ পর্যন্ত অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান থেকে ইসলাম গ্রহণের মূল পদ্ধতিকে দুনিয়ার সকল প্রান্তে একই রেখেছে। সেই কালিমা নিয়ে যদি বিতর্ক সৃষ্টি করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাবে ইসলাম গ্রহণের পদ্ধতি যদি সৃষ্টি  করা যায় ; তখন ঈহুদী, খ্রিষ্টান ও নাস্তিকেরা অন্তত একথা বলার সুযোগ পাবে যে, দেখ ধর্ম আসলেই কিছুনা। বিশ্বের একেক প্রান্তে একেক ভাবে ধর্মে দীক্ষিত করা হয় ; এলাকার অবস্থা ভেদে। যদিও কেয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করেও তারা দ্বীন ইসলামের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র কোন বিষয়কেও  বিকৃত করতে পারবেনা।

সহীহ হাদীস মানার ধূয়াতুলে ঈমানের কালিমা لآإله إلاالله محمد رسول الله নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলা খেলতেছে; তারা ইসলাম ও মুসলিমের কেউ হতে পারেনা। সন্দেহ নেই তারা ঈহুদী-খ্রিষ্টানের দালাল।

তবু তারা বসে নেই। আর তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নামধারী একদল মুসলিমকে তারা টার্গেট করেছে। যাদের ধর্মীয় জ্ঞান বলতে আসলেই কিছু নেই। তাদের অনেকেই না জেনে বুঝে এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকা পড়েছে। আর কিছু সংখ্যক এমন আছে; যারা অর্থের কাছে নিজ ঈমানকে বিক্রি করেছে। সুতারাং এদের থেকে দূরে থাকা ও এদেরকে প্রতিহত করা আমার, আপনার, সকলের ঈমানী দায়ীত্ব।

এবার আসি মূল আলোচনায়ঃ

কালিমা ত্বায়্যিবা কি কুরআন-হাদীসে আসলেই আছে?

নাকি এটা কারও মনগড়া বানানো বিদয়াত?

نُعَيْمُ الْغِفَارِيُّ بْنُ عَمِّ أبِيْ ذَرٍّ لَه صُحْبَةٌ ذَكَرَه يُوْنُسُ بْنُ بُكَيْرٍ فِيْ زِيَادَاتِ الْمَغَازِيْ وَأخْرَجَه الْحَاكِمُ مِنْ طَرِيْقِ يُوْنُسَ عَنْ يُوْسُفَ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أبِيْهِ قَالَ إنْطَلَقَ أبُوْ ذَرٍّ وَنُعَيْمُ بْنُ عَمِّ أبِيْ ذَرٍّ وَأنَا مَعَهُمْ يَطْلُبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُسْتَتِرٌ بِالْجَبَلِ فَقَالَ بِه أبُوْ ذَرٍّ يَا مُحَمَّدُ أتَيْنَاكَ لِنَسْمَعَ مَا تَقُوْلُ قَالَ أقُوْلُ لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ فَآمَنَ بِه أبُوْ ذَرٍّ وَصَاحبُه- الاصابة ٦/٤٦۳

হযরত বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, হযরত আবু জার রা. ও তার চাচাতো ভাই নুআইম রা.নবী কারীম স.কে তালাশ করছিলেন আর আমি তাদের সাথেছিলাম। নবী কারীম স. তখন পাহাড়ে লুকিয়েছিলেন। হযরতআবু জার রা. বললেন: হে মুহাম্মাদ! স. আমরা আপনারকাছে আপনার কথা শুনতে এসেছি। তখন নবী কারীম স.ইরশাদ করলেন: আমি তোমাদেরকে لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ বলি অর্র্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই। মুহাম্মাদস. আল্লাহ তাআলার রসূল। অতঃপর আবু জার রা. ও তারসাথী এ কথার ওপর ঈমান আনলেন। (আল ইসাবা: ৬/৪৬৩,সাহাবী নম্বর- ৮৭৯২)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। ইউসুফ বিন সুহাইব ব্যতীত এহাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর ইউসুফ বিন সুহাইব ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: ৮৮৭৬)

عَنْ أنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلْتُ الجَنَّةَ فَرَأيْتُ في عارِضَتِي الجَنَّةِ مَكْتُوباً ثَلاَثَةَ أسْطُرٍ بالذَّهَبِ السَّطْرُ الأوَّل لاَإلهَ إلا الله محمَّدٌ رَسوُلُ الله والسَّطرُ الثَّانِي ماقَدَّمْنا وَجَدْنا وما أكَلْنا رَبِحْنا وما خَلَّفْنا خَسِرْنا والسَّطْرُ الثَّالِثُ أُمَّةٌ مُذْنِبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ. ( رواه ابن النجار في تاريخ بغداد والرافعي في تاريخ قزوين)

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহস. ইরশাদ করেন: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে জান্নাতের উভয়পাশে স্বর্ণাক্ষরে ৩টি লাইন লেখা দেখলাম।

১ম লাইন :  لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ অর্র্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই মুহাম্মাদ স.আল্লাহ তাআলার রসূল।২য় লাইন : যা আমরা আগে পাঠিয়েছি তার প্রতিদানপেয়েছি, যা দুনিয়াতে পানাহার করেছি তা দ্বারা লাভবানহয়েছি। আর যা দুনিয়াতে ছেড়ে এসেছি তাতে আমরাক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ৩য় লাইন : উম্মাত গুনাহগার এবং রবক্ষমাকারী। (জামে’ সগীর: হাদীস নম্বর- ৪১৮৬)

হাদীসটির স্তর : হাসান লিগইরিহী। আল্লাহ  তাআলারএকত্ববাদ এবং রসূলুল্লাহ স.-এর নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাসপ্রকাশের একটি বাক্য হলো لَا إلهَ إلَّا اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْلُ اللهِ উক্তবিশ্বাস প্রকাশের আরও অনেক বাক্য রয়েছে। তন্মধ্যে এবাক্যটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হওয়ার সাথে সাথে উম্মাতেরমধ্যে এর ব্যাপক প্রসিদ্ধিও রয়েছে। তাই আমরা এটাকেঈমানের কালিমা হিসেবে পড়ে থাকি। পূর্ববর্ণিত সহীহ হাদীসছাড়াও এ কালিমা বর্ণিত হয়েছে:

হযরত হারেস বিন খঝরায রা. থেকে (মু’জামে কাবীর লিততবারানী:৪১৮৮, মু’জামে আওসাত লিত তবারানী:২১৯,মু’জামে ছগীর লিত তবারানী:৯৪৮,৯৯২)

হযরত উমর রা. থেকে (মু’জামে আওসাত লিত তবারানী:৫৯৯৬ ও ৬৫০২)

হযরত আবু যর রা. থেকে (মুসনাদে বায্যার:৪০৬৫ নংহাদীসে) এবং

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে (মু’জামে কাবীর-১১০৯৩ নংহাদীসে)

হযরত আনাস বিন মালেক রা. থেকে (জামে’ সগীর: হাদীসনম্বর- ৪১৮৬)

Copyright By: মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com