এতায়াতি ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি?

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

হযরত কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন।

আমার একটি বিষয় জানার প্রয়োজন। তা হলো আমাদের মহল্লার মসজিদের খতিব সা’দ সাহেব কে অনুসরণ করেন, তিনি এতাআতি আলেম হিসেবে পরিচিত এখন তার পিছনে আমাদের নামাজ হবে কিনা দলিল সহ জানালে উপকৃত থাকবো।

মায়াসসালাম

মোঃ বিলাল হুসাইন

যোগীপোল, খুলনা।

উত্তরঃ

حامدا ومصليا ومسلما. أما بعد،

সর্ব প্রথম মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে জেনে নিন যে, সা’দ সাহেব তিনি নিজে ইসলামী শরীয়তের কোন পর্যায়ে পড়েন।

এতায়াতি তথা সা’দ সাহেবের অনুসারী ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি?

প্রথমতঃ কুরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি বেদাতি ক্ষেত্রবিশেষে তিনি মুলহিদও। এখন আলোচনার বিষয়বস্তু হলো যে বিদআতি বা মুলহিদ ইমামের পিছনে নামাজ হবে কিনা?

দ্বিতীয়তঃ তার এমন দু’চারটে বক্তব্য পাওয়া যায় যা কুফরির পর্যায়ের। এমতাবস্থায় তার পেছনে নামাজ হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।

এখন দেখার বিষয় হলো উক্ত ইমাম সাহেব সা’দ সাহেবের বক্তব্য এই কুফরি বক্তব্যকে বিশ্বাস করেন কিনা সেটা সুস্পষ্ট হতে হবে। যদি তিনি বিশ্বাস করেন, তাহলে তার পিছনে কোন অবস্থাতেই নামাজ হবে না। আর যদি বিশ্বাস না করেন তাও একজন পথভ্রষ্ট লোকের পথ ভ্রষ্ট ভাবে অনুসরণ করার কারণে তার পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমী হবে। সর্বপ্রথম বেদাতি ইমামের পিছনে নামাজ হবে কিনা তার দলীল পেশ করব। অতঃপর সাদ সাহেবের কিছু ভ্রান্ত আকিদা তুলে ধরে উপসংহারে যাব ইনশাআল্লাহ।

বিদাতি ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার বিধানঃ

বিদআতপন্থী ইমামের বিদআত হয়তো কুফরি বিদআত হবে অথবা সাধারণ কোন বিদআত হবে। যদি কুফরি-বিদআত হয় তাহলে ওই ইমামের পিছনে নামায পড়া জায়েয হবে না। আর যদি ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয় এমন কোন বিদআত না হয়; বরং তার বিদআতি-কার্যক্রম কেবল কবিরা গোনাহ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে,যেমন প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম, জানাযার পরে মুনাজাত ইত্যকার বিষয় সে করে তাহলে  তার পিছনে নামায পড়া মাকরুহে তাহরিমী। আরও বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ

     ﻭﺇﻣﺎﻣﺔ ﺻﺎﺣﺐ اﻟﻬﻮﻯ ﻭاﻟﺒﺪﻋﺔ ﻣﻜﺮﻭﻫﺔ، ﻧﺺ ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺑﻮ ﻳﻮﺳﻒ ﻓﻲ اﻷﻣﺎﻟﻲ ﻓﻘﺎﻝ: ﺃﻛﺮﻩ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ اﻹﻣﺎﻡ ﺻﺎﺣﺐ ﻫﻮﻯ ﻭﺑﺪﻋﺔ؛ ﻷﻥ اﻟﻨﺎﺱ ﻻ ﻳﺮﻏﺒﻮﻥ ﻓﻲ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻔﻪ، ﻭﻫﻞ ﺗﺠﻮﺯ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻔﻪ؟

ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺾ ﻣﺸﺎﻳﺨﻨﺎ: ﺇﻥ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻒ اﻟﻤﺒﺘﺪﻉ ﻻ ﺗﺠﻮﺯ، ﻭﺫﻛﺮ ﻓﻲ اﻟﻤﻨﺘﻘﻰ ﺭﻭاﻳﺔ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﺮﻯ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻒ اﻟﻤﺒﺘﺪﻉ، ﻭاﻟﺼﺤﻴﺢ ﺃﻧﻪ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻫﻮﻯ ﻳﻜﻔﺮﻩ ﻻ ﺗﺠﻮﺯ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﻜﻔﺮﻩ ﺗﺠﻮﺯ ﻣﻊ اﻟﻜﺮاﻫﺔ

١/١٥٧ بدائع الصنائع

ﻭﻻ ﺗﺠﻮﺯ ﺧﻠﻒ اﻟﺮاﻓﻀﻲ ﻭاﻟﺠﻬﻤﻲ ﻭاﻟﻘﺪﺭﻱ ﻭاﻟﻤﺸﺒﻬﺔ ﻭﻣﻦ ﻳﻘﻮﻝ ﺑﺨﻠﻖ اﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺣﺎﺻﻠﻪ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻫﻮﻯ ﻻ ﻳﻜﻔﺮ ﺑﻪ ﺻﺎﺣﺒﻪ ﺗﺠﻮﺯ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻔﻪ ﻣﻊ اﻟﻜﺮاﻫﺔ ﻭﺇﻻ ﻓﻼ. ﻫﻜﺬا ﻓﻲ اﻟﺘﺒﻴﻴﻦ ﻭاﻟﺨﻼﺻﺔ ﻭﻫﻮ اﻟﺼﺤﻴﺢ.

ﻫﻜﺬا ﻓﻲ اﻟﺒﺪاﺋﻊ ﻭﻣﻦ ﺃﻧﻜﺮ اﻟﻤﻌﺮاﺝ ﻳﻨﻈﺮ ﺇﻥ ﺃﻧﻜﺮ اﻹﺳﺮاء ﻣﻦ ﻣﻜﺔ ﺇﻟﻰ ﺑﻴﺖ اﻟﻤﻘﺪﺱ ﻓﻬﻮ ﻛﺎﻓﺮ ﻭﺇﻥ ﺃﻧﻜﺮ اﻟﻤﻌﺮاﺝ ﻣﻦ ﺑﻴﺖ اﻟﻤﻘﺪﺱ ﻻ ﻳﻜﻔﺮ ﻭﻟﻮ ﺻﻠﻰ ﺧﻠﻒ ﻣﺒﺘﺪﻉ ﺃﻭ ﻓﺎﺳﻖ ﻓﻬﻮ ﻣﺤﺮﺯ ﺛﻮاﺏ اﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻟﻜﻦ ﻻ ﻳﻨﺎﻝ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻨﺎﻝ ﺧﻠﻒ ﺗﻘﻲ. ﻛﺬا ﻓﻲ اﻟﺨﻼﺻﺔ.

١/٨٤ فتوي هندية

ﻭاﻟﻤﺒﺘﺪﻉ” ﺑﺎﺭﺗﻜﺎﺑﻪ ﻣﺎ ﺃﺣﺪﺙ ﻋﻠﻰ ﺧﻼﻑ اﻟﺤﻖ اﻟﻤﺘﻠﻘﻰ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻋﻠﻢ ﺃﻭ ﻋﻤﻞ ﺃﻭ ﺣﺎﻝ ﺑﻨﻮﻉ ﺷﺒﻬﺔ ﺃﻭ اﺳﺘﺤﺴﺎﻥ ﻭﺭﻭﻯ ﻣﺤﻤﺪ ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺭﺣﻤﻪ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭﺃﺑﻲ ﻳﻮﺳﻒ ﺃﻥ اﻟﺼﻼﺓ ﺧﻠﻒ ﺃﻫﻞ اﻷﻫﻮاء ﻻ ﺗﺠﻮﺯ ﻭاﻟﺼﺤﻴﺢ ﺃﻧﻬﺎ ﺗﺼﺢ ﻣﻊ اﻟﻜﺮاﻫﺔ ﺧﻠﻒ ﻣﻦ ﻻ ﺗﻜﻔﺮﻩ ﺑﺪﻋﺘﻪ ﻟﻘﻮﻟﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: “ﺻﻠﻮا ﺧﻠﻒ ﻛﻞ ﺑﺮ ﻭﻓﺎﺟﺮ ﻭﺻﻠﻮا ﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﺑﺮ ﻭﻓﺎﺟﺮ ﻭﺟﺎﻫﺪﻭا ﻣﻊ ﻛﻞ ﺑﺮ ﻭﻓﺎﺟﺮ” ﺭﻭاﻩ اﻟﺪاﺭﻗﻄﻨﻲ ﻛﻤﺎ ﻓﻲ
[ اﻟﺒﺮﻫﺎﻥ]
١/١١٥ مراقي الفلاح

এবার আসি সা’দ সাহেবের ভ্রান্তি বা গোমরাহির বিষয়েঃ

১। আমরা সকলে এটা জানি যে আত্মহত্যা মহা পাপ। অথচ তিনি আত্মহত্যার পদ্ধতি সু-নিপুন ভাবে বর্ণনা করে অতঃপর বলতেছেন যে, এ মেহনতে আল্লাহর মদদের ইয়াকিন যার নেই, সে যেন আত্মহত্যা করে।

অথচ হাদীসে রাসুলে পাক সাঃ ইরশাদ করেনঃ

أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنَ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ شَرِبَ سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَرَدَّى فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কোন ধারাল অস্ত্র দ্বারা আত্নহত্যা করবে, সে অস্ত্র তার হাতে থাকবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দ্বারা সে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি বিষপানে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে উক্ত বিষ পান করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি নিজকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে আত্নহত্যা করবে, সে ব্যাক্তি সর্বদা পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যাক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। সহীহ মুসলিম, ইঃফাঃ, হাদীস নং ২০১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، – وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ – حَىٌّ مِنَ الْعَرَبِ – عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْتَقَى هُوَ وَالْمُشْرِكُونَ فَاقْتَتَلُوا ‏.‏ فَلَمَّا مَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَسْكَرِهِ وَمَالَ الآخَرُونَ إِلَى عَسْكَرِهِمْ وَفِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ لاَ يَدَعُ لَهُمْ شَاذَّةً إِلاَّ اتَّبَعَهَا يَضْرِبُهَا بِسَيْفِهِ فَقَالُوا مَا أَجْزَأَ مِنَّا الْيَوْمَ أَحَدٌ كَمَا أَجْزَأَ فُلاَنٌ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَمَا إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا صَاحِبُهُ أَبَدًا ‏.‏ قَالَ فَخَرَجَ مَعَهُ كُلَّمَا وَقَفَ وَقَفَ مَعَهُ وَإِذَا أَسْرَعَ أَسْرَعَ مَعَهُ – قَالَ – فَجُرِحَ الرَّجُلُ جُرْحًا شَدِيدًا فَاسْتَعْجَلَ الْمَوْتَ فَوَضَعَ نَصْلَ سَيْفِهِ بِالأَرْضِ وَذُبَابَهُ بَيْنَ ثَدْيَيْهِ ثُمَّ تَحَامَلَ عَلَى سَيْفِهِ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَخَرَجَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ وَمَا ذَاكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ الرَّجُلُ الَّذِي ذَكَرْتَ آنِفًا أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَأَعْظَمَ النَّاسُ ذَلِكَ فَقُلْتُ أَنَا لَكُمْ بِهِ فَخَرَجْتُ فِي طَلَبِهِ حَتَّى جُرِحَ جُرْحًا شَدِيدًا فَاسْتَعْجَلَ الْمَوْتَ فَوَضَعَ نَصْلَ سَيْفِهِ بِالأَرْضِ وَذُبَابَهُ بَيْنَ ثَدْيَيْهِ ثُمَّ تَحَامَلَ عَلَيْهِ فَقَتَلَ نَفْسَهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ ‏”‏ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏

কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ আল সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুশরিকরা পরস্পর মুখোমুখি হলেন এবং যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে গেল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেনাবাহিনীর দিকে অগ্রসর হলেন এবং অপরপক্ষও তাদের সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গীদের মধ্যে সে সময় এমন এক ব্যাক্তি ছিল যে সেদিন বীরত্বের সাথে লড়েছিল। কোন কাফিরকে দেখামাত্র সে তার পিছনে লেগে যেত এবং তরবারি দ্বারা খতম করে দিত। লোকেরা তার বীরত্ব দেখে বলাবলি করছিল যে, অমুক ব্যাক্তি আজ যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে, আমাদের কেউ তা পারেনি। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ মনে রেখ, সে ব্যাক্তি জাহান্নামবাসী।

উপস্থিত লোকদের একজন বলল, আমি সর্বক্ষণ তার সাথে থাকব। তারপর সে ব্যাক্তি তার পিছনে থাকল। যেখানে সে থামত, সেও সেখানে থেমে যেত। যখন সে দ্রুতবেগে কোথাও যেত, সেও তার সাথে দ্রুতবেগে সেখানে গমন করত। শেষ পর্যন্ত সে ব্যাক্তি মারাত্মকভাবে যখম হল। তারপর ক্ষতের জ্বালার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে ত্বরায় মৃত্যু কামনা করল। সে তার তরবারি যমীনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় স্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়ল এবং নিজেকে হত্যা করল।

তাকে অনুসরণকারী লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গেল এবং সাক্ষ্য প্রদান করল, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেনঃ ব্যাপার কি? সে বলল, আপনি একটু আগে যে ব্যাক্তিকে জাহান্নামী বলেছিলেন এবং লোকেরা এতে আশ্চর্যানিত হয়েছিল; আমি বলেছিলাম, আমি তার সাথে থেকে তোমাদেরকে খবর পৌছাব। আমি অপেক্ষায় রইলাম। অবশেষে সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং ত্বরায় মৃত্যুর জন্য নিজের তরবারি যমীনে রেখে এর অগ্রভাগ তার উভয় ন্তনের মাঝামাঝি ঠেকিয়ে দিল। তারপর এর উপর ঝুঁকে পড়ল এবং নিজেকে হত্যা করল। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকের দৃষ্টিতে কোন ব্যাক্তি জান্নাতের কাজ করছে অথচ সে জাহান্নামী হয়। আবার লোকের দৃষ্টিতে কোন ব্যাক্তি জাহান্নামের কাজ করছে; অথচ সে জান্নাতবাসী হয়। সহীহ মুসলিম, ইঃফাঃ, হাদীস নং ২০৭

অথচ তিনি কতটা অবলীলায় সহীহ হাদীসের সুস্পষ্ট বিরোধিতা করে আত্মহত্যার প্রতি উৎসাহ দিলেন। এটা কি সুস্পষ্ট কুফরি নয়?

শুনুন তার সেই বক্তব্যটি

২। তিনি তার অন্য একটি বক্তব্যে বলেছেনঃ হিদায়াত আল্লাহর কাছে থাকলে কেন তিনি নবী পাঠিয়েছেন?

অথচ আল্লাহ নিজেই বলেছেনঃ

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তাআলাই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন। সূরা কাসাস, আয়াত:56

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

   وَمَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُمْ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِهِ

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, সেই হিদায়াত প্রাপ্ত হয়। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন সে আল্লাহ ব্যতীত কোন সাহায্যকারি পাবেনা। সূরা বনী ঈসরাইল, আয়াতঃ৯৭

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, সেই হিদায়াত প্রাপ্ত হয়। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন সে ক্ষতিগ্রস্থদের দলভূক্ত। সূরা আ’রাফ, আয়াতঃ১৭৮

এখানেও দেখুন পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট বিরোধিতা। যা কুফরির শামিল।

শুনে দেখতে পারেন তার নিজের মুখের সেই বক্তব্যটি

৩। অতঃপর শুনুন তার নিজের মুখের বক্তব্যঃ

নবী সাঃ এর ভূল ধরে তিনি কি বলেছেন? আপনি সরাসরি একদম নিকটতম আওরাঙ্গবাদ এজতেমার (2018) বাদ আছরের বিবাহের মজলিসের বয়ানটা শুনুন।

কোন কাটপিছ নয় বরং পুরা বয়ানটা শুনুন। 48/47 মিনিটের বয়ান। আপনি বয়ান টি সংগ্রহে না থাকলে “আওরাঙ্গবাদ এজতেমার (2018) বাদ আছরের বিবাহের মজলিসের বয়ান” লিখে ডাউনলোড করে নিন।

সুন্দর আলোচনা, 28 মিনিটের মাথায় এসে তিনি আমাদের নবীর শানে এমন কথা বলে ফেললেন যা বিশ্বাস করলে একজন মানুষের ঈমানের বড় ক্ষতির স্বিকার হবে। 

তিনি বললেন হুজুর (সা:) সমস্ত বিবিদের ওলিমা করেছেন করেছেন খেজুর বা পনির দিয়ে, ওলিমার ক্ষেত্রে এটাই তার 

আইনে সুন্নত,কিন্তু তিনি হযরত যায়নাব (রা:) এর 

সময় ওলিমা করলেন গোস্ত রুটি দিয়ে, এতে নবী তাঁর সুন্নত থেকে সরে আসলেন, আল্লাহ তায়ালার কি শান, নবীর এই তার সুন্নত থেকে সরে আসার কারনে কষ্টের স্বিকার হইছেন “।

অথচ নবীর আগের টাও সুন্নত পরেরটাও সুন্নত নবীর সকল কাজ সুন্নত নবী কে বলা সুন্নত থেকে সরে আসছেন এটা শুধু বড় গোমরাহীর কথা নয়, বরং ইসমতে আম্বিয়া বা নবীগণ গোনাহ করতে পারেননা মর্মে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদাকে সরাসরিই অ-স্বীকার। এটাও কুফরির শামিল।

বক্তব্যের মূল পয়েন্টটি শুনুন  

এবার আসি তার ভ্রান্ত তথা কুরআন হাদীসের অপব্যখ্যা মূলক কিছু বক্তব্যের ব্যপারে শুধু আপনাদের অবগতই করি। লম্বা আলোচনা করলে লেখা দীর্ঘ হয়ে যাবে তাই বিষয় ভিত্তিক শুধু হেডলাইন তুলে ধরছিঃ

এতায়াতি তথা সা’দ সাহেবের অনুসারী ইমামের পিছনে নামাজ হবে কি?

১। কেয়ামত পর্যন্ত নিজামুদ্দীনই মার্কাজ থাকবেঃ

শুনে দেখুন

প্রশ্ন জাগে এটা কি কোনো বিধান নাকি সংবাদ?

যদি বিধান হয়, তাহলে ওহীর? ইজমার?? নাকি মনগড়া???

আর সংবাদ হলে এটাই বলবোঃ ভবিষ্যতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহই রাখেন। যা একজন মুসলিমের আক্বিদা তথা বিশ্বাস।

২। মসজিদের বাহিরে দাওয়াত দেওয়া সুন্নত পরিপন্থীঃ

শুনুন

তাহলে নিজে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সকল দাওয়াতি বয়ান সুন্নাত পরিপন্থী ভাবে করেন; সেগুলো কি পেটের ধান্দায়? কেননা তিনি নিজেও এটা ভালো করে জানেন যে, সুন্নত পরিপন্থীভাবে দাওয়াত দিয়ে কারও হিদায়াতের আশা করা যায়না।

৩। ইসলামের সর্বপ্রথম, মসজিদে নববীতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা “আসহাবুসসুফফা” নাকি কোনো মাদরাসাই ছিলোনাঃ

শুনতে পারেেন

তাহলে সেটা কি ছিলো, তা আপনার ক্লিয়ার বলা উচিৎ ছিলো। যা আপনি করেননি। অপেক্ষায় রইলাম ক্লিয়ার হওয়ার আশায়।

৪। আওরঙ্গবাদ ইজতেমায় ফেরেশতারা সেবা-যত্ন করেছেনঃ

শুনুন! বুঝুন

কিন্তু এই খেদমতরত অবস্থায় ফেরেশতাদের কে দেখেছে, সেটা কিন্তু বলেননি। যদি আপনি নিজেই দেখে থাকেনঃ তাহলে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার অনুরোধ করছি।

৫। আমিই তোমাদের সকলের আমীর, আমার যাহা ইচ্ছা করিব, যদি (আমাকে আমীর) না মানো, তবে জাহান্নামে যাওঃ

আহ কি মধূ মাখা কথা

আচ্ছা আপনাকে আমীর কে নির্বাচন করেছে? সেটা কিন্তু বলেননি। ওহ! আরেকটা কথাঃ আপনি আবার জান্নাত-জাহান্নামের মালিক কবে থেকে হলেন? আর কে বানালো?? আশাকরি এটাও অতিদ্রুতই কোনো একদিন বয়ানের মাঝে জানিয়ে দিবেন।

৬। মোবাইলে কুরআন পড়া বিদাতঃ শুনুন

আর আমি যদি বলি আপনার ফাতওয়া দেওয়ায়াই বিদাত?

যাক সে প্রসংগ। অন্তত এতটুকু জানার আশা তো করতেই পারি যে, ফাতওয়াদাতার ফাতওয়া দেওয়ার সনদ কোন স্থান থেকে অর্জিত হয়েছে? আরেকটি কথাঃ খুবই জরুরী প্রয়োজনে আপনার কাছে একটি ফাতওয়া চাচ্ছি যে, আপনি যে টাইলস ওয়ালা মসজিদে নামাজ পড়েন, এটা বিদাত হবেনা কেন? দলীল দিতে ভুল করবেননা, এটা আশারাখি।

৭। শূরা বানানো সবচেয়ে বড় ফিতনাঃ শুনুন

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ وأمرهم شوري بينهم মুমিনগণ তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরস্পর পরামর্শ করে। আর আপনি বলছেন এটা সবচেয়ে বড় ফিতনা। মুমিনদের গুণ যার কাছে ফিতনা হয়; সে যাইহোক, মুমিন হতে পারেনা।

৮। দুই লজ্জা স্থানের মিলনই বিবাহঃ শুনুন

এটার আর ব্যাখ্যা কি দিবো? সুস্থ মস্তিষ্কের সকলেই বুঝবেন যে, এই বিষাক্ত সাপ কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে লেগেছে।

৯। মসজিদে জরারে যারা একত্রিত হয়েছিলো তারা মুসলিম ছিলোঃ শুনুন

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ 

 وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ ۚ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَىٰ ۖ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক। সূরা তাওবাহ:107

এখানে আল্লাহ তাদের কয়েকটি বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেনঃ ক) তারা জেদি খ) তারা কাফের গ) তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে যুদ্ধকারী ঘ) তারা মিথ্যুক।

এরা যদি আপনার দৃষ্টিতে মুসলিম হয়, তাহলে এটাও আশা করা যায় যে, আপনি তাদের দলভুক্ত। তবে ঘোষণা দিতে ভয় পাচ্ছেন।

১০। সর্বশেষ যার উপর ভিত্তি করে দারুল উলুম দেওবন্দ সর্বপ্রথম ফাতওয়া প্রদান করে।

যেখানে মুসা আঃ এর ভূল ধরতে যেয়ে পরোক্ষভাবে আল্লাহর ভুল ধরেছেনঃ     শুনুন  

কেননা আপনি বলেছেনঃ মূসা আঃ ৪০দিন যাবত দাওয়াতের ফরজিয়্যাত ছেড়ে দেওয়ার কারণে বনী ঈসরাইল পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। আর এটা হযরত মুসা আঃ এর ভূল ছিলো। তাই যদি হয়, তবে এটাও জানা থাকা চাই যে, হযরত মুসা আঃ নিজ ইচ্ছায় নয়, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশেই ৪০ দিন যাবত (আপনার ভাষায়) ফরজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাহলে দোষটা কার? নাউজুবিল্লাহ।

সারকথাঃ এভাবে সা’দ সাহেবের ভ্রান্তি লিখলে কয়েকশত পৃষ্ঠা লেখা সম্ভব। মূল কথা হলো আপনার উপরোক্ত ইমাম সাহেব যদি সা’দ সাহেবের কুফরি আক্বীদাগুলি সমর্থন করেন, তাহলে তার পিছনে নামাজ হবেনা। আর যদি সমর্থন নাও করেন, তখনও তবুও অন্যান্য ভ্রান্তির কারণে তার পিছনে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরীমি হবে।।

والله اعلم بالصواب

Copyright By: মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ                     

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com