সহীহ হাদীস ও ইজমায়ে উম্মাহ-র আলোকে ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবীর সংখ্যা

সম্মানিত পাঠক বৃন্দ! সর্বপ্রথম একটা কথা বলে নেওয়া জরুরী মনে করছিঃ আর তাহলো আমাদের সমাজে বর্তমান একদল লোকের আবির্ভাব হয়েছে ; যারা উত্তম – অনুত্তমের মাসয়ালা গুলিকে জায়েজ – না জায়েজের স্লোগান তুলে সমাজে মতোবিরোধের বিষ বৃক্ষ রোপণ করে চলছে। ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবীর সংখ্যা ৬/১২ কোনটিকেই আমরা নাজায়েজ বলিনা। শুধু এটা বলি একটা উত্তম ; অপরটা অনুত্তম। এটা দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৪শত বছরের সম্প্রীতি ও উম্মতের ঐক্যমত। কিন্তু এই ফেতনা বাজেরা আজ এই সম্প্রীতি বিনষ্টে সহীহ হাদীস মানার স্লোগান তুলে পৃথক ঈদগাহ ও মসজিদ তৈরি করে সমাজে ভয়াবহ মতোবিরোধ ও ফেতনার দ্বার উন্মোচিত করেছে। এদের ধোঁকা থেকে দূরে থাকা আমাদের সকলের ঈমানী দায়িত্ব।

সহীহ হাদীস ও ইজমায়ে উম্মাহ-র আলোকে ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবীর সংখ্যা

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَابْنُ أَبِي زِيَادٍ، الْمَعْنَى قَرِيبٌ قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدٌ، يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَائِشَةَ، جَلِيسٌ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ ‏.‏ فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِي الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ(رَوَاه ابُوْ دَاود فِىْ بَابِ بَابُ التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ)‏

সাঈদ ইবনুল আস রহ. হযরতআবু মুসা আশআরী ও হযরত হুজাইফা রা.কে জিজ্ঞেসকরলেন যে, রাসূলুল্লাহ স. দুই ঈদের নামাযে কতবারতাকবীর দিতেন? জবাবে হযরত আবু মুসা আশআরী রা.বললেন: জানাযার তাকবীরের মতো ৪ বার তাকবীর দিতেন।তখন হুজাইফা রা. বললেন: আবু মুসা সত্য বলেছেন। আবুমুসা রা. আরও বললেন: আমি বসরা থাকাবস্থায় এভাবেইতাকবীর বলতাম। বর্ণনাকারী আবু আয়েশা রহ. বলেন: আমিসাঈদ ইবনুল আস-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। (আবু দাউদ:১১৫৩)

হাদীসটির স্তর: হাসান। যায়েদ ইবনুল হুবাব এবং সাবিত বিনসাওবান ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর যায়েদ ইবনুল হুবাব صدوق“সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ২৩২৬) সাবিত বিন সাওবান ثقةٌ“নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: ৯০৭) শায়খ শুআইব আরনাউতমুসনাদে আহমাদের তাহকীকে এ হাদীসটিকে হাসানবলেছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭৩৪ নম্বর হাদীসেরআলোচনায়) শায়খ আলবানীও হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।(সহীহ-জঈফ আবু দাউদ: ১১৫৩)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীসে হযরত আবু মুসা আশআরী রা.ঈদের নামাযে চার-চার তাকবীরের কথা বলেছেন। এর ব্যাখ্যাহযরত ইবনে মাসউদের হদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, প্রথমরাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলবে; যার মধ্যেতাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ত তাকবীরতিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চার তাকবীরবলবে; যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আর অতিরিক্ততাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীরসর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭)

عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ قَدْ حَدَّثَانَا ، قَالَا : ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي الْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ أَنَّ الْقَاسِمَ ، أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَّى بِنَا ، النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ ، فَكَبَّرَ أَرْبَعًا ، وَأَرْبَعًا ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ حِينَ انْصَرَفَ ، قَالَ : لَا تَنْسَوْا ، كَتَكْبِيرِ الْجَنَائِزِ ، وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ ، وَقَبَضَ إبْهَامَهُ- فَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْإِسْنَادِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ , وَيَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ , وَالْوَضِينُ وَالْقَاسِمُ كُلُّهُمْ أَهْلُ رِوَايَةٍ , مَعْرُوفُونَ بِصِحَّةِ الرِّوَايَةِ

হযরত কাসেম বিন আব্দুর রহমান রহ.বলেন: রসূলুল্লাহ স.-এর কোন এক সাহাবা আমাকে হাদীসবর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ স. আমাদেরকে ঈদের দিনেনামায পড়ালেন। তাতে ৪বার অতঃপর ৪বার তাকবীরবললেন। নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরে বৃদ্ধাঙ্গুল বন্ধকরে হাতের অপর ৪ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন:তোমরা ভুলে যেও না, এটা জানাযার তাকবীরের মতো।(ত্বহাবী : ৭২৭৩ পৃষ্ঠা: ৪০০)

হাদীসটির স্তর: হাসান। ইমাম ত্বহাবী  রহ. বলেন: এহাদীসের সনদ হাসান। এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে আলী বিনআব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তাকরীব: ৫৩৪৭)ইয়াহইয়া বিন উসমানের ব্যাপারে ইমাম জাহাবী বলেন: حافظ أخبارى له ما ينكر “হাফেজ, ঐতিহাসিক। তবে তাঁর কিছুমুনকার বর্ণনাও রয়েছে”। (আল কাশেফ: ৬২১৭) আব্দুল্লাহবিন ইউসুফ বুখারীর রাবী। ইয়াহইয়া বিন হামযা বুখারী-মুসলিমের রাবী। ওয়াযিন বিন আতার ব্যাপারে ইমাম জাহাবীবলেন, ثقة ، و بعضهم ضعفه “তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে কেউকেউ তাঁকে জঈফ বলেছেন”। (আল কাশেফ: ৬০৫০) আবুআব্দুর রহমান صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (আল কাশেফ: ৪৫১৭)

ফায়দা : ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ স.থেকে বর্ণিত শুধু হাসান হাদীস দ্বারা এ কারণে দলীল গ্রহণকরতে হলো যে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন সহীহ মারফু’ হাদীসনেই। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: لَيْسَ فِي تَكْبِيرِ الْعِيدَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ، “ঈদের নামাযের তাকবীরের ব্যাপারেরসূলুল্লাহ স. থেকে বর্ণিত কোন সহীহ হাদীস নেই”। (নাসবুররায়াহ: ঈদের নামায অধ্যায়) তবে সাহাবা ও তাবিঈগণেরমন্তব্য এবং আমল থেকে আমরা দলীল গ্রহণ করে থাকি।

ঈদের তাকবীরের ব্যাপারে বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামের আমল

عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ جَالِسًا وَعِنْدَهُ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ، فَسَأَلَهُمَا سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ عَنِ التَّكْبِيرِ فِي الصَّلَاةِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى فَجَعَلَ هَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، وَهَذَا يَقُولُ: سَلْ هَذَا، فَقَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ: سَلْ هَذَا لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: يُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُومُ فِي الثَّانِيَةِ فَيَقْرَأُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا بَعْدَ الْقِرَاءَةِ

একদা হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.বসেছিলেন। তাঁর কাছে হযরত হুজাইফা ও আবু মুসাআশআরী রা. উপস্থিত ছিলেন। সাঈদ ইবনুল আছ তাঁদেরদু’জনকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে নামাযের তাকবীরসম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তাঁদের একজন অপরজনেরনিকটে জিজ্ঞেস করার কথা বলতেছিলেন যে, তাঁর কাছেজিজ্ঞেস কর। আবার অপরজন বলেন, তাকে জিজ্ঞেস কর।পরে হযরত হুজাইফা বললেন: এ বিষয়টি আব্দুল্লাহ বিনমাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। তিনি হযরত ইবনে মাসউদরা.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ৪ বার তাকবীর দিয়েকুরআন পাঠ করে তাকবীর বলে রুকু করবে। অতঃপর দ্বিতীয়রাকাতে কুরআন পড়ে ৪ বার তাকবীর বলবে। (আব্দুররযযাক: ৫৬৮৭)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীরহ. বলেন: رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق عَن ابْن مَسْعُود بِإِسْنَاد “আব্দুররযযাক ইবনে মাসউদ থেকে সহীহ সনদে হাদীসটি বর্ণনাকরেছেন”। (আদদিরায়াহ: হাদীস নম্বর- ২৮৬)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদেরনামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بن الْمَرْزُبَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ كُرْدُوسٍ، قَالَ: أَرْسَلَ الْوَلِيدُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بن مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ، وَأَبِي مَسْعُودٍ، وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ بَعْدَ الْعَتَمَةِ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا عِيدُ الْمُسْلِمِينَ فَكَيْفَ الصَّلاةُ؟ فَقَالُوا: سَلْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَسَأَلَهُ، فَقَالَ:”يَقُومُ فَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا، ثُمَّ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ، وَيَرْكَعُ فَتِلْكَ خَمْسٌ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا يَرْكَعُ فِي آخِرِهِنَّ فَتِلْكَ تِسْعٌ فِي الْعِيدَيْنِ”، فَمَا أَنْكَرَهُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ.

কুরদুস বিন আব্বাস রহ. বলেন: হযরতওয়ালিদ ইশার নামাযের পরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ,হুজাইফা, আবু মাসউদ এবং হযরত আবু মুসা আশআরী রা.-এর নিকটে লোক পাঠালেন। প্রেরিত দূত তাঁদের নিকটে  গিয়েবললো: এটা মুসলমানদের ঈদ। আপনারা বলে দিন যে,নামাযের পদ্ধতি কেমন হবে? তাঁরা সবাই বললেন: হযরতআবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.কে জিজ্ঞেস করুন। জবাবে হযরত ইবনে মাসউদ বলেন: ঈদেরনামাযের জন্য দাঁড়িয়ে ৪ বার তাকবীর বলে সূরা ফাতিহা ওমুফাছছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে এবং পুনরায়তাকবীর বলে রুকু করবে। এ হলো মোট ৫টি তাকবীর।এরপর দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও মুফাছ্ছল থেকে অপর একটিসূরা পড়বে। অতঃপর ৪ বার তাকবীর বলবে যার শেষতাকবীরে রুকু করবে। এ হলো সর্বমোট ৯টি তাকবীর। তিনিএ কথা বলার পরে তাদের কেউই এর প্রতিবাদ করেননি।(তবারানী কাবীর: ৯৪০০)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। আল্লামা হাইসামী বলেন:رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ “তবারানী তাঁর মু’জামেকাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এ হাদীসেরবর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য”। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ:৩২৪৭) হযরত ইবনে হাযাম এ হাদীসটির সনদকে উঁচুমানের সহীহ বলেছেন। (মুহাল্লা: ঈদের নামায অধ্যায়)

সারসংক্ষেপ : হযরত ইবনে মাসউদ রা.-এর বর্ণনা অনুযায়ীপ্রথম রাকাতে কিরাতের পূর্বে চার তাকবীর বলতে হবে যারমধ্যে তাকবীরে তাহরিমা একটি এবং ঈদের অতিরিক্ততাকবীর তিনটি। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পরে চারতাকবীর বলবে যার মধ্যে রুকুর তাকবীর একটি আরঅতিরিক্ত তাকবীর তিনটি। অতএব, ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তাকবীর সর্বমোট ছয়টি প্রমাণিত হলো।

এ হাদীস দু’টিতে হযরত আবু মুসা আশআরী এবং হযরতআব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর মতো প্রবীণ মুজতাহিদসাহাবার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে যারা সর্বদা রসূলুল্লাহ স.-এরসঙ্গে ঈদের নামায আদায় করেছেন। অতএব, নির্দ্বিধায় বলাযেতে পারে যে, রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ছিলো অতিরিক্ত ছয়তাকবীরের সাথে ঈদের নামায পড়া।

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ شَهِدْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ كَبَّرَ فِي صَلَاةِ الْعِيدِ بِالْبَصْرَةِ تِسْعَ تَكْبِيرَاتٍ، وَالَى بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ قَالَ: وَشَهِدْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ فَعَلَ ذَلِكَ أَيْضًا. فَسَأَلْتُ خَالِدًا كَيْفَ فَعَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ؟ فَفَسَّرَ لَنَا كَمَا صَنَعَ ابْنُ مَسْعُودٍ فِي حَدِيثِ مَعْمَرٍ وَالثَّوْرِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ سَوَاءً

হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারিস বলেন: আমিহযরত ইবনে আব্বাস রা.কে দেখেছি: তিনি বসরায় ঈদেরনামাযে নয়টি তাকবীর দিলেন এবং উভয় রাকাতেরকিরাতকে মিলালেন। আমি মুগীরা বিন শু’বা রা.কেও অনুরূপকরতে দেখেছি। অতঃপর আমি খালিদ হাজ্জাকে জিজ্ঞেসকরলাম: ইবনে আব্বাস রা. নয় তাকবীর কীভাবে দিলেন?তিনি আমাকে (পূর্ববর্ণিত) মা’মার ও সাওরীর মাধ্যমে আবুইসহাক থেকে বর্ণিত ইবনে মাসউদ রা.-এর হাদীসের অনুরূপব্যাখ্যা দিলেন। (আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৯)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। ইসমাঈল ব্যতীত এহাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আরইসমাঈল ثقة “নির্ভরযোগ্য”। (আল কাশেফ: ৩৮৫) হাফেজইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: إِسْنَاده صَحِيح“হাদীসটির সনদ সহীহ”। (আদদিরায়াহ: ২৮৬ নম্বর হাদীস-এর আলোচনায়) হযরত ইবনে মাসউদ রা. ও হযরত ইবনেআব্বাস রা. থেকে বর্ণিত শেষোক্ত হাদীস দুটির সনদেরব্যাপারে হযরত ইবনে হাযাম বলেন: وَهَذَانِ إسْنَادَانِ فِي غَايَةِ الصِّحَّةِ، “এ সনদ দু’টি খুব উঁচু মানের সহীহ”। (মুহাল্লা:ঈদের নামায অধ্যায়)

হযরত ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক ৯ তাকবীরের ব্যাখ্যায়হযরত ইবনে মাসউদ রা.-এর যে হাদীসের বরাত দেয়াহয়েছে, সে হাদীসটি এর কেবলই পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে।উক্ত নয় তাকবীরের ব্যাখ্যা হলো: প্রথম রাকাতে তাকবীরেতাহরিমা, রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ততিন তাকবীর মিলে পাঁচ তাকবীর। আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুরতাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিন তাকবীর মিলেচার তাকবীর হলো। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০) সর্বমোট নয়তাকবীর। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْعِيدِ تِسْعًا، فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ

হযরত মুহাম্মাদ বিন সীরীন রহ. বলেন:হযরত আনাস রা. ঈদের নামাযে নয় তাকবীর দিতেন। একথা বলে বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এরতাকবীরের মতো বর্ণনা দিলেন। (ইবনে আবী শাইবা: ৫৭৬০)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : এ হাদীসে বর্ণিত নয় তাকবীরের ব্যাখ্যা হযরতইবনে মাসউদ রা. থেকে পূর্ববর্ণিত তবারানী কাবীর-এর৯৪০০ নম্বর হাদীসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ঈদেরনামাযের জন্য দাঁড়িয়ে ৪ বার তাকবীর বলে সূরা ফাতিহা ওমুফাছ্ছল থেকে অপর একটি সূরা পড়বে এবং পুনরায়তাকবীর বলে রুকু করবে। এ হলো ৫টি তাকবীর। এরপরদাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও মুফাছ্ছল থেকে অপর একটি সূরাপড়বে। অতঃপর ৪ বার তাকবীর বলবে যার শেষ তাকবীরে রুকু করবে। এ হলো ৪ তাকবীর। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)সর্বমোট ৯ তাকবীর যার মধ্যে উভয় রাকাতে তিনটি করেমোট ছয়টি তাকবীর শুধু ঈদের নামাযে অতিরিক্ত বলতে হয়।সুতরাং এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَا: تِسْعُ تَكْبِيرَاتٍ، وَيُوَالِي بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ

হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. ওহযরত সাঈদ বিন মুসাইয়াব রহ. বলেন: নয় তাকবীর দিবেএবং দুই রাকাতের কিরাত মিলিয়ে নিবে। (ইবনে আবীশাইবা: ৫৭৫৬)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাউকুফ ও মাকতু’। এ হাদীসেররাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : দুই কিরাতের মাঝে মিলিয়ে দেয়ার ব্যাখ্যাহলো: প্রথম রাকাতের কিরাত হবে অতিরিক্ত তাকবীরেরপরে। আর দ্বিতীয় রাকাতের কিরাত হবে অতিরিক্ত তাকবীরেরপরে। এ হিসেবে দুই রাকাতের কিরাত এমনভাবে মিলেগেলো যে, এর মাঝে কোন অতিরিক্ত তাকবীর থাকলো না।আর নয় তাকবীর হলো: প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরিমা,রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিন তাকবীরমিলে পাঁচ তাকবীর। আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর এবংঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিন তাকবীর মিলে চার তাকবীর।(তবারানী কাবীর: ৯৪০০) সর্বমোট নয় তাকবীর। অতএব, এহাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে, ঈদের নামাযের অতিরিক্ততাকবীর ছয়টি।

ঈদের তাকবীরের ব্যাপারে বিশিষ্ট তাবিঈনে কিরামের আমল

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: أَنَّ أَصْحَابَ عَبْدِ اللَّهِ، كَانُوا يُكَبِّرُونَ فِي الْعِيدِ تِسْعَ تَكْبِيرَاتٍ

ইবরাহীম নাখঈ রহ. বলেন: হযরতআব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর ছাত্রগণ (যারা প্রবীণ তাবিঈ)ঈদের নামাযে নয় তাকবীর দিতেন। (ইবনে আবী শাইবা:৫৭৬১)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ইবুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : নয় তাকবীরের ব্যাখ্যা হলো: প্রথম রাকাতেতাকবীরে তাহরিমা, রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তিন তাকবীর মিলে পাঁচ তাকবীর। আর দ্বিতীয়রাকাতে রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিনতাকবীর মিলে চার তাকবীর। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)সর্বমোট নয় তাকবীর। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে,ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ عَنْ هِشَامٍ عَنِ الْحَسَنِ وَمُحَمَّدٍ أَنَّهُمَا كَانَا يُكَبِّرَانِ تِسْعَ تَكْبِيرَاتٍ

হযরত হাসান বসরী ও মুহাম্মাদ বিন সীরীন ঈদের নামাযে নয় তাকবীর দিতেন। (ইবনে আবী শাইবা:৫৭৬৫)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ইবুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : নয় তাকবীরের ব্যাখ্যা হলো: প্রথম রাকাতেতাকবীরে তাহরিমা, রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তিন তাকবীর মিলে পাঁচ তাকবীর। আর দ্বিতীয়রাকাতে রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিনতাকবীর মিলে চার তাকবীর। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)সর্বমোট নয় তাকবীর। এ হাদীস

থেকে প্রমাণিত হলো যে, ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: نَا أَبُو كُدَيْنَةَ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، وَالْمُسَيِّبِ، قَالَا: الصَّلَاةُ يَوْمَ الْعِيدَيْنِ تِسْعُ تَكْبِيرَاتٍ، خَمْسٌ فِي الْأُولَى، وَأَرْبَعٌ فِي الْآخِرَةِ، لَيْسَ بَيْنَ الْقِرَاءَتَيْنِ تَكْبِيرَةٌ

ইমাম শা’বী ও মুসাইয়াব বিন রাফে’বলেন: উভয় ঈদের নামাযে নয় তাকবীর। প্রথম রাকাতেপাঁচটি আর দ্বিতীয় রাকাতে চারটি। দুই কিরাতের মাঝে(অতিরিক্ত কোন) তাকবীর নেই। (ইবনে আবী শাইবা:৫৭৭৪)

হাদীসটির স্তর: সহীহ, মাকতু’। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ইবুখারী-মুসলিমের রাবী।

সারসংক্ষেপ : নয় তাকবীরের ব্যাখ্যা হলো: প্রথম রাকাতেতাকবীরে তাহরিমা, রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযেরঅতিরিক্ত তিন তাকবীর মিলে পাঁচ তাকবীর। আর দ্বিতীয়রাকাতে রুকুর তাকবীর এবং ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তিনতাকবীর মিলে চার তাকবীর। (তবারানী কাবীর: ৯৪০০)সর্বমোট নয় তাকবীর। এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হলো যে,ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর ছয়টি।

ফায়দা : অতিরিক্ত ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার দলীলহিসেবে হাসান সনদে বর্ণিত রসূলুল্লাহ স.-এর আমল ও তাঁরবাণী, (আবু দাউদ: ১১৫৩, ত্বহাবী: ৭২৭৩) সহীহ সনদেবর্ণিত জলীলুল কদর সাহাবায়ে কিরামের আমল ও মন্তব্য(আব্দুর রযযাক: ৫৬৮৭ ও ৫৬৮৯, তবারানী: ৯৪০০ এবংইবনে আবী শাইবা: ৫৭৫৬ ও ৫৭৬০) এবং সহীহ সনদেবর্ণিত বিশিষ্ট তাবিঈদের আমল ও মন্তব্য (ইবনে আবী শাইবা:৫৭৬১, ৫৭৬৫ ও ৫৭৭৪)-এর ভিত্তিতে আমরা অতিরিক্ত ৬তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করে থাকি এবংএটাকে উত্তম বলে বিশ্বাস করি।

এর বিপরীতে  ১২ তাকবীরে ঈদের নামায আদায় করার কথাও হাদীসে বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত৫৩৬ নম্বর হাদীসকে ইমাম তিরমিজী রহ. এ অধ্যায়ের সর্বাধিক সহীহ হাদীস বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ উক্তহাদীসটি জঈফ। কারণ, এ হাদীসের সনদের কাসীর বিনআব্দুল্লাহ নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তাঁর ব্যাপারেইমাম আহমাদ রহ. বলেন: منكر الحديث  “তাঁর হাদীসঅগ্রহণযোগ্য”। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: ضعيف الحديث“তাঁর হাদীস জঈফ”। আবু দাউদ বলেন: كان أحد الكذابين“তিনি মিথ্যাবাদীদের একজন”। ইমাম দারাকুতনী বলেন:متروك الحديث “তাঁর হাদীস পরিত্যাক্ত”। (তাহজীবুত তাহজীবও তাহজীবুল কামাল থেকে সংগৃহীত)। ইবনে হাজারআসকালানী বলেন: ضعيف أفرط من نسبه إلى الكذب “তিনিজঈফ, যারা তাঁকে মিথ্যার দিকে সম্বোধন করেছে তারাবাড়াবাড়ি করেছে”। (তাকরীব: ৬৩০৮)। সুতরাং এমন রাবীর বর্ণিত হাদীস কীভাবে সর্বাধিক সহীহ হয়? এ হাদীসেরব্যাপারে ইমাম তিরমিজী রহ. নিজে তাঁর ইলালুল কুবরায় বলেন: ইমাম বুখারী রহ.কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এটাকে জঈফ বলেছেন। (আল ইলালুল কুবরা: ঈদের নামাযেরতাকবীর অধ্যায়) ইমাম দারাকুতনী রহ. এটাকে মুজতরাববলেছেন। (ইলালুদ দারাকুতনী: ৩৪৫৮)

১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছেআবু দাউদ: ১১৪৯ ও ১১৫০ নম্বরে। এ দু’টি হাদীসের বর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন লাহিআহ। তিনি যদিও মুসলিমের রাবী;কিন্তু তাঁর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: كان ضعيفا لا يحتج بحديثه “তিনি জঈফ, তার হাদীস দলীলযোগ্য নয়”। ইমামনাসাঈ রহ. বলেন: ليس بثقة “তিনি নির্ভরযোগ্য নন”। ইবনেআবী হাতিম বলেন: سألت أبى وأبا زرعة عن الإفريقى و ابن لهيعة: أيهما أحب إليك ؟ فقالا: جميعا ضعيفان “আমি আমার পিতাআবু হাতিম এবং আবু যুরআকে জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহবিন লাহিআহ এবং আফরিকী এ দুজনের মধ্যে আপনার নিকটে কে প্রিয়? তিনি বললেন: দুজনই জঈফ”। (তাহজীবুলকামাল ও তাহজীবুত তাহজীব থেকে সংগৃহীত) ইমাম জাহাবীবলেন: قلت: العمل على تضعيف حديثه “তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্তহলো তাঁর হাদীসকে জঈফ গণনা করা”। (আল কাশেফ:২৯৩৪) অবশ্য আব্দুল্লাহ বিন মুবারক ও আব্দুল্লাহ বিনওয়াহহাব রহ. ইবনে লাহিআ থেকে যা বর্ণনা করেন তা অন্যদের বর্ণনার চেয়ে তুলনামূলক বেশী গ্রহণযোগ্য। কিন্তুউক্ত বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন লাহিআ নিঃসঙ্গ হওয়ায় সে প্রাধান্যের দিকটিও দুর্বল হয়ে গেছে। হাকেম এবং ইমাম জাহাবী রহ. বলেন: تفرد به ابن لهيعة “হাদীসটি আব্দুল্লাহ বিনলাহিআ একাই বর্ণনা করেছেন”। (মুসতাদরাকে হাকেম:১১০৮ নম্বর হাদীস ও ইমাম জাহাবীর তালখীছে)

১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস আরও বর্ণিত আছেআবু দাউদ: ১১৫১ ও ১১৫২ নম্বর হাদীসে। এ দু’টি হাদীসেরবর্ণনায় রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী।অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাঁরব্যাপারে কিছু মুহাদ্দিসীনে কিরামের আপত্তি রয়েছে। عن ابن معين : ضعيف “হযরত ইয়াহইয়া বিন মাঈন রহ. বলেন: তিনিজঈফ”। আবু হাতিম বলেন: ليس بقوى ، لين الحديث “তিনিশক্তিশালী নন, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম”। ইমাম নাসাঈবলেন: ليس بذاك القوى و يكتب حديثه “তিনি তেমন মজবুতনন। তবে তাঁর হাদীস লেখার যোগ্য”।

উপরোক্ত তথ্যের দ্বারা ইবনে লাহিআ বা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফী রহ. বর্ণিত হাদীসকে অগ্রহণযোগ্য বলাআমার উদ্দেশ্য নয়; বরং এটা দেখানো উদ্দেশ্য যে, ইবনে লাহিআ ও আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান তায়েফীর মাধ্যমেবর্ণিত ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীসের তুলনায়পূর্ববর্ণিত ৬ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার হাদীস তুলনামূলকবেশী শক্তিশালী। এ কারণে আমরা ৬ তাকবীরে ঈদের নামাযপড়ার আমলকে উত্তম মনে করি। তবে ১২ তাকবীরে ঈদের নামায পড়ার আমলকেও অবৈধ মনে করিনা।

Copyright By:- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com