আত্মহত্যাকারি ব্যক্তির জানাজা পড়া যাবে কি না?

প্রশ্নঃ আত্মহত্যাকারি ব্যক্তির জানাজা নামাজ কি সবাই পড়তে পারবে? ইমাম সাহেব কি পড়তে পারবেনা? বিস্তারিত জানাবেন উপকারী হবে।আল্লাহ আপনাদের কবুল করুক।

ইতিঃ আলফাজ হুসাইন, হরিনাকুন্ডু, ঝিনাইদহ।

হুসাইন আহমাদ।

উত্তরঃ

حامدا ومصليا ومسلما، امابعد

আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়ার বিষয়ে ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে  এমনকি খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত হলো, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। কিন্তু মুসলিম সমাজের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের জানাযায় অংশগ্রহণ না করা উচিৎ। কেননা কোনো মুসলমান কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবার কারণে কাফের হয়ে যায়না। হক্ব পন্থী সকলেই এ ব্যাপারে একমত। যে ব্যক্তি ঈমান ও ইসলামের চৌহদ্দী থেকে বেরিয়ে যায়না, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা যেমন জায়েয, জানাযা পড়াও তেমনি জায়েয। কেননা জানাযাও এক ধরণের মাগরিফাতের দোয়া ছাড়া আর কিছু নয়। পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল। এছাড়া আর কোনো গুনাহগার বা পাপাচারীর জানাযা যদি রসূল সা. নিজে না পড়িয়ে থাকেন, তবে সেটা তিরষ্কার বা ভৎর্সনা স্বরূপ ছিলো। এ দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়নি যে, এ ধরনের লোকের জানাযা অন্য কেউ পড়তে পারবেনা। বরঞ্চ কোনো কোনো সময় তিনি তার জানাযা পড়ার জন্য সাহাবিগণকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির জানাযা। কোনো সাহাবি ইন্তিকাল করলেই তিনি জিজ্ঞেস করতেন, এই ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ নয় তো? যদি হতো, তাহলে তিনি নিজে জানাযা পড়াতেননা, তবে অন্যান্য সাহাবিদেরকে পড়তে আদেশ দিতেন। পরবর্তীকালে এরূপ ব্যবস্থাও হয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিতো কিংবা যদি বায়তুলমাল থেকে পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেয়া হতো তবেই রসূল সা. জানাযা পড়িয়ে দিতেন। আত্মহননকারীর ব্যাপার তদ্রুপ। আমার জানামতে রসূল সা. আত্মহত্যাকারির জানাযা পড়তে নিষেধ করেছেন এবং তাকে বিনা জানাযায় দাফন করা হয়েছে-এমন কথা কোনো সহীহ হাদিসে নেই। যে অপরাধের সংঘটকের জানাযা নামায পড়ানোর সদয় অনুমতি স্বয়ং রসূল সা. দিয়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরাম যার জানাযা পড়েছেন তার জানাযা এখন সর্বোতভাবে নিষিদ্ধ করা কিভাবে জায়েয হয় এটা বুঝে আসেনা।
অবশ্য কতোক ফকিহ আত্মহত্যা ও অন্যান্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির জানাযা না পড়ার পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন। কিন্তু এই ফতোয়া সর্বক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য নয়। ইমাম ইবনে হাযমের মতে অতি বড় গুনাহগার ব্যক্তিও মাগফিরাতের দোয়া ও জানাযা নামাযের মুখাপেক্ষী। আর তার এই মতটিই অধিক অগ্রগণ্য।
আগেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে যে, রসূল সা. স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে :
———————————————————————————
“রসূল সা.-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।”
এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে ইমাম নববী বলেন যে, হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয ও ইমাম আওযায়ীর মতে এরূপ ব্যক্তির জানাযা জায়েয নেই। তবে ইমাম হাসান বসরী, ইমাম নাখয়ী, ইমাম মালেক, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী ও অন্যান্য সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে তার জানাযা পড়া যাবে। এ হাদিসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁরা বলেন, রসূল সা.-এর জানাযা না পড়ানোর উদ্দেশ্য ছিলো কেবল জনগণকে সাবধান করা, যেনো তারা এই গুনাহর কাজ না করে। সাহাবায়ের কিরাম তার জানাযা পড়েছেন। এরপর ইমাম নববী সেই ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছেন এবং কাযী ইয়াযের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, প্রত্যেক মুসলমানের জানাযা পড়া উচিত এটাই সকল আলেমের অভিমত, চাই তার উপর শরিয়তের দণ্ড কার্যকর হয়ে থাক, পাথর নিক্ষেপে মারা যাক কিংবা আত্মহত্যা করুক। আবু দাউদের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস রয়েছে এবং তাতে রসূল সা.-এর শুধুমাত্র এই কথাটির উদ্ধৃতি রয়েছে যে, আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম খাত্তাবী বলেন, অধিকাংশ ফকীহর মত, এরূপ ব্যক্তির জানাযা নামায পড়া হবে। হাফেয মুনযিরীও বলেছেন, রসূল সা.-এর জানাযা না পড়ানোর উদ্দেশ্য ছিলো মানুষকে হুশিয়ার করা। তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ :
———————————————————————————
“হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।”
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত। মাওলানা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী স্বীয় গ্রন্থ ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’তে প্রথমে ইমাম নববীর উপরোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। অতপর ‘নাইলুল আওতার’ এর বরাত দিয়ে ইমাম শওকানীর উক্তি তুলে ধরেছেন যে, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আবু হানিফা এবং অধিকাংশ আলেমের মতে ঘোরতর পাপিরও জানাযা নামায পড়া জায়েয। আত্মহত্যাকারীর জানাযা যদিও রসূল সা. পড়াননি, কিন্তু সাহাবায়ে কিরাম পড়িয়েছেন। সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ———— ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।
শুরুতেই উল্ল্যেখ করা হয়েছে যে, হানাফি ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণের মতামতও দু’রকমের পাওয়া যায়। তবে জায়েয হওয়ার মতটিই অপেক্ষাকৃত শুদ্ধ ও অগ্রগণ্য। দুররে মুখতারে বলা হয়েছে :
———————————————————-
“সজ্ঞানেও যদি কেউ আত্মহত্যা করে তবে তাকে গোসল দিতে হবে ও জানাযা পড়তে হবে। এটাই কার্যকর বিধান বা ফতোয়া।”
এই উক্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইমাম ইবনে আবেদীন ‘রদ্দুল মুহতারে’ বলেন : “আত্মহত্যাকারির জানাজা না পড়ার পক্ষে যারা যুক্তি দাঁড় করেছেন, তাদের যুক্তির পক্ষে হাদিস থেকে সমর্থন পাওয়া যায়না। হাদিসে শুধু বলা হয়েছে যে, রসূল সা. জানাযা পড়াননি। শুধু শিক্ষা দেয়াই এর উদ্দেশ্য ছিলো। এমন কথা বলা হয়নি যে, সাহাবায়ে কিরামও জানাযা পড়েননি। রসূল সা.-এর জানাযা পড়ানো এবং অন্যদের জানাযা পড়ানো এক কথা নয়। এরূপ ব্যক্তি তওবা করেনি বা তার তওবা কবুল হয়নি, এমন কথা বলা কঠিন। কেননা তওবা তো যে কোনো গুনাহগারের কবুল হতে পারে, এমনকি কাফেরেরও হতে পারে।”
‘রদ্দুল মুহতার’ গ্রন্থকারের উপরোক্ত অভিমত সম্পূর্ণ সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত। যে ব্যক্তিকে সবাই মুসলমান বলে জানে এবং কাফের আখ্যায়িত করার মতো যথেষ্ট অকাট্য যুক্তি নেই, তাকে জানাযার নামায ও দোয়া দ্বারা উপকৃত হওয়ার অবাধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায়না। কেননা হাদিসের সুস্পষ্ট উক্তি দ্বারা এ অধিকার প্রত্যেক মুসলমানকে দেয়া হয়েছে। হাদিসে এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের প্রাপ্য যে কয়টি অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে, জানাযা পড়া তার অন্যতম। তাছাড়া যে সমাজে আমরা বসবাস করছি, তাও দৃষ্টিপথে রাখতে হবে।
এখানে অসংখ্য লোক এমন রয়েছে, যারা নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ফরয তরক করে চলছে এবং নরহত্যা, মদ্যপান, ব্যভিচার ও অন্যান্য কবিরা গুনাহে লিপ্ত। তাদের সবার জানাযা পড়া হবে, আর কেবল আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া হবেনা এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করা হবে- এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার। এ কথা নি:সন্দেহে সত্য যে, আল্লাহ ও রসূল সা. যদি সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিতেন যে, আত্মহত্যাকারী বা অমুক কবিরা গুনাহকারীর জানাযা কোনো মুসলমান পড়তে পারবেনা, তাহলে আমরা কখনো এ হুকুম অমান্য করার ধৃষ্ঠতা দেখাতাম না। কিন্তু এ ধরণের সুস্পষ্ট নির্দেশ যখন নেই, তখন সঠিক তথ্যনির্ভর মত এবং সতর্ক কর্মপন্থা এটাই হতে পারে যে, আমরা কোনো ব্যক্তির জানাযা পড়তে না চাইলে নাই পড়লাম, কিন্তু যে ব্যক্তি কাফের নয় এবং ইসলামের গণ্ডির বাইরে নয়, তার জানাযা পড়া নিষেধ বলে ফতোয়া দেয়া যাবেনা এবং অন্যদেরকেও জানাযা পড়া থেকে বিরত রাখা যাবেনা।
সারকথাঃ
আর এই আলোচনার এরূপ অর্থ করা ঠিক হবেনা যে, আত্মহত্যা একটা নগণ্য পদঙ্খলন। বরং আত্মহত্যা নি:সন্দেহে এক সাংঘাতিক ও গুরুত্বর মহাপাপ। সহীহ হাদিসে এর পরিণতি জাহান্নাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং রসূল সা. বলেছেন : যে অস্ত্র দ্বারা কোনো ব্যক্তি আপন প্রাণ সংহার করে দোযখে সেই অস্ত্রই চিরস্থায়ী নির্যাতন যন্ত্র হিসেবে তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে এবং সে তা দ্বারা নিরন্তর আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালাতে থাকবে। এ কাজ চরম কাপুরুষতা ও আল্লাহর প্রতি কুধারণা, হতাশা ও অকৃতজ্ঞতা পোষণের প্রমাণ বহন করে। তাই এ কাজ কোনো অবস্থাতেই কোনো মুসলমানের জন্য জায়েয নয়। কোনো মানুষ নিজের প্রাণের স্রষ্টাও নয়, মালিকও নয় যে, যখন ইচ্ছে এবং যেভাবে ইচ্ছে, তাকে ধ্বংস করবে। তথাপি এমন হতভাগা মানুষ যদি মুসলমান হয়ে থাকে, তবে তার জানাযা পড়া জায়েয। তবে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম তারা জানাজা পড়বেননা এই উদ্দ্যেশ্যে যে, ভবিষ্যতে এমন কাজ কেউ যেন না করে। হয়তো বা আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতেও পারেন, চাই সেটা শাস্তি ভোগের পরেই হোক।

Copyright By: মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ্ শেখ

About الفقه الحنفي الفقه الاكبر

বিদগ্ধ মুফতিয়ানে কেরামের দ্বারা পরিচালিত , সকল বাতিলের মুখোশ উন্মোচনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , উলামায়ে আহনাফ এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারীদের সরবাধুনিক মুখপাত্র ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম। আমাদের কারয্যক্রমঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ডটকম । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অনলাইন রিচার্স সেন্টার । গ) বাতিলের মোকাবেলায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলামিক সেমিনার ঘ) এবং মুনাজারায় অংশগ্রহণ । ঙ) হোয়াটএ্যাপ্স, টেলিগ্রাম, ভাইবার & সোমা চ্যাট ম্যাসেঞ্জারে ফিকহে হানাফীঃপ্রশ্ন-উত্তর গ্রুপ। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ- ক) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট অফলাইন রিচার্স সেন্টার । খ) ফিকহে হানাফী দ্যা গ্রেট ইউনিভার্সিটি । গ) হানাফী টিভি সহ আরও বহুমুখি প্রকল্প। আমাদের আবেদনঃ- এই বহুমুখি এবং বিশাল প্রকল্প-এর ব্যয়ভার কারও একার পক্ষে বহন করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যপার। সুতারাং আপনি নিজে ও আপনার হিতাকাংখি দ্বীনের খেদমতে আগ্রহী বন্ধুদের নিয়ে মাসিক/বাতসরিক ও এককালীন সদস্য হিসেবে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করে এগিয়ে আসবেন ; এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ- ১) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বয়রা শাখা, খুলনা Account Name: Md. Hedaytullah Account No: 2704501011569 ২) বিকাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ ৩) এমক্যাশঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৬ ৪) ডি,বি,বি,এল/রকেটঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩৮ Express Money Transfer:- Name Hedaytullah ID NO 6512895339162 সার্বিক যোগাযোগঃ- মুফতি মুফাসসির হিদায়াতুল্লাহ শেখ মোবাঃ- +৮৮০১৯২৩৮৭১২৯৩ fiqhehanafithegreat@gmail.com